দিঘায় আর দিতে হবে না পর্যটক-কর! সমুদ্র শহরকে বিশ্বমানের করতে একঝাঁক মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দিঘা: সৈকত শহর দিঘার ভোলবদল করতে এবং পর্যটকদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর নিয়ে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে যে ১০ টাকার ট্যাক্স বা কর নেওয়া হতো, তা আগামী ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণ মকুব করার ঘোষণা করলেন তিনি। রবিবার দিঘা–শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের (DSDA) এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দিঘাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক মেগা পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত দু’বছরে দিঘায় কোনও উন্নয়নই হয়নি। রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে পর্যটকদের নিরাপত্তা— সব কিছুই বর্তমানে বেহাল দশায় রয়েছে। মাত্র কয়েকজন পুলিশকর্মী নিয়ে দিঘা থানা চলছে এবং পর্যাপ্ত নুলিয়াও নেই।
দিঘার ভোলবদলে মুখ্যমন্ত্রীর একঝাঁক বড় ঘোষণা:
- ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল: দিঘায় অন্তত ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি করা হবে। যেখানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫টি আইসিইউ (ICU), ৫টি এইচডিইউ (HDU) এবং শিশুদের জন্য ৫টি এসএনসিইউ (SNCU) বেডের ব্যবস্থা থাকবে।
- মেরিন ড্রাইভের সম্প্রসারণ: উপকূলবর্তী এলাকার অর্থনৈতিক ও পর্যটন ব্যবস্থার চেহারা বদলে দিতে দিঘা থেকে পেটুয়া পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে।
- দাদনপাত্রবাড়ে সমুদ্র বন্দর: দাদনপাত্রবাড়ে একটি নতুন সমুদ্র বন্দর তৈরি করা হবে। এখানকার সমুদ্রের নাব্যতা অত্যন্ত ভালো হওয়ায় এই বন্দর পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলে দেবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী।
- রেললাইনের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ: পর্যটন ও বন্দরের বিকাশে ওড়িশা ও বাংলার মধ্যে দিঘা-জলেশ্বর রেল সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দিঘা–নন্দকুমার রেল লাইন সম্প্রসারণেরও ঘোষণা করেন তিনি।
জগন্নাথ মন্দির বিতর্ক নিয়ে স্পষ্ট বার্তা:
দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী কিছু তথ্য সংশোধন করে দিয়ে স্পষ্ট জানান, সরকারি খাতা বা টেন্ডারে কোথাও ‘ধাম’ শব্দ নেই, এই কেন্দ্রের অফিশিয়াল নাম হলো ‘শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’। তবে এখানে জগন্নাথদেবের নিত্যপূজা, ভোগ, আরতি ও কীর্তন-ভজনের সমস্ত ধর্মীয় রীতিনীতি মন্দির হিসেবেই বজায় থাকবে।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠক শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাসভবন ‘শান্তিকুঞ্জের’ উদ্দেশে রওনা দেন।
