অস্তিত্বহীন এনসিপিআই দলের সঙ্গেই হাত মেলাচ্ছেন কাকলিরা! হাওড়াতেই রয়েছে কার্যালয় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভায় নিজেদের পৃথক অস্তিত্ব বজায় রাখতে এবার কার্যত একটি ‘অস্তিত্বহীন’ রাজনৈতিক দলের ছাতার তলায় আশ্রয় নিতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই-তে যোগদানের আর্জি জানিয়ে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন।
অস্তিত্বহীন দলের খোঁজ ও সমীকরণ
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল এই এনসিপিআই। দলটির মূল কর্মক্ষেত্র আসাম ও ত্রিপুরা সংলগ্ন জনজাতি এলাকা হলেও এর নিবন্ধিত কার্যালয় খোদ পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাঁকড়ায় অবস্থিত। রাজনৈতিকভাবে এই দলের তেমন কোনও প্রভাব নেই, এমনকি ২০২৩ সালের নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েও তারা জয়ী হতে পারেনি। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব দেবের সঙ্গে আলোচনার পরেই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচিতি টিকিয়ে রাখতে এই আনকোরা দলটিকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর কৌশল
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে ব্যাপক বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। একদিকে রাজ্য বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাংশ সরব, অন্যদিকে লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সাংসদরা এনডিএ-র সঙ্গে আলাদা ব্লক তৈরির দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারকে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আইনত তৃণমূল একটিই দল এবং একাংশ আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে স্বীকৃতি দাবি করতে পারে না। মূলত এই আইনি জটিলতা ও সাংসদ পদ খারিজের সম্ভাবনা এড়াতেই বিদ্রোহী সাংসদরা তড়িঘড়ি এনসিপিআই-তে যোগদানের কৌশল নিয়েছেন। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু তৃণমূলের অন্দরের ফাটলকেই চওড়া করবে না, বরং জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের সমীকরণকেও বড়সড় পরিবর্তনের মুখে দাঁড় করাবে।
