‘সবাই মরল, আমি কেন বাঁচলাম?’ এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার এক বছর পর মানসিক নরকযন্ত্রণা একমাত্র জীবিত যাত্রীর! – এবেলা

‘সবাই মরল, আমি কেন বাঁচলাম?’ এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার এক বছর পর মানসিক নরকযন্ত্রণা একমাত্র জীবিত যাত্রীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়া দিল্লি: গত বছর ভারতের বুকে ঘটে গিয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এক বিমান দুর্ঘটনা। গুজরাট থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান উড্ডয়নের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। প্রাণ হারান ২৬০ জন। কিন্তু সেই অভিশপ্ত ফ্লাইটের ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন মাত্র একজন— ৩৯ বছর বয়সী বিশ্বাসকুমার রমেশ।

দুর্ঘটনার এক বছর কেটে গেলেও, সেই কালো দিনের ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে। বর্তমানে ‘সারভাইভার গিল্ট’ (Survivor Guilt)-এর মতো মারাত্মক মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। সবাই মারা গেলেও তিনি কেন বেঁচে রইলেন, এই অপরাধবোধ এবং তীব্র মানসিক ট্রমা তাঁকে প্রতি মুহূর্তে দগ্ধ করছে।

সেই অভিশপ্ত দিন— ঠিক কী ঘটেছিল?

২০২৫ সালের ১২ জুন। গুজরাটের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ১২ জন ক্রু মেম্বারসহ মোট ২৪২ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি। কিন্তু রানওয়ে ছাড়ার ঠিক ৩২ সেকেন্ডের মাথায় ঘটে যায় চরম বিপর্যয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি সোজা গিয়ে ধাক্কা মারে একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ও ক্যান্টিন ভবনে।

ধাক্কার অভিঘাতে বিমানের ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া বিমানটি ক্যান্টিন ভবনের ওপর ভেঙে পড়ায় নিচে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬০-এ। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রমেশ তাঁর নিজের ভাই অজয়কেও হারিয়েছেন।

লাশ কাটার ঘর থেকে হেঁটে এসেছিলেন রমেশ

দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা উদ্ধারকারীরা ভেবেছিলেন বিমানে থাকা কেউই আর বেঁচে নেই। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের মাঝখান থেকে রক্তে ভেজা টি-শার্ট গায়ে, হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে রমেশের হেঁটে আসার একটি ভিডিও সে সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। ২৬০টি লাশের মাঝে তিনিই ছিলেন একমাত্র জীবিত মানুষ।

কাটছে বিনিদ্র রাত, ঘরবন্দি জীবন

বর্তমানে ব্রিটেনের লেস্টার (Leicester) শহরে বসবাসকারী রমেশ নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “মানুষ দেখছে আমি বেঁচে আছি। কিন্তু আমি যে কী নরকযন্ত্রণা ভোগ করছি, তা কেউ জানে না। চোখের সামনে সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য ভেসে ওঠে, রাতে একটুও ঘুমাতে পারি না। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমি বেঁচে আছি, কিন্তু বেঁচে থাকাটাই গল্পের শেষ নয়। এরপর থেকে শুরু হওয়া আমার শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক লড়াই ভাষায় প্রকাশ করা আসাম্ভব।”

লেস্টারের এক বাসিন্দা সঞ্জীব প্যাটেল, যিনি গত এক বছর ধরে রমেশের পরিবারের পাশে আছেন, তিনি জানান, “রমেশ এখন অন্যের সাহায্য ছাড়া বাড়ির বাইরেও বের হতে পারেন না। তাঁর মানসিক অবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই ট্রমা থেকে তিনি আদেও কোনোদিন বের হতে পারবেন কি না, কেউ জানে না।”

বর্তমানে এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত যৌথভাবে চালাচ্ছে ভারতের তদন্তকারী সংস্থা এবং ব্রিটেনের ‘এয়ার এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ’। গত মার্চ মাসে রমেশ নিজেই আহমেদাবাদ এসে তদন্তকারীদের সাথে দেখা করে দুর্ঘটনার মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে গেছেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *