সীমান্তের ওপারে তেলের আগুন, প্রতিবেশী দেশে হাহাকার! সংকটের মাঝেও ভারত শান্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের ওপর হামলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই সামুদ্রিক পথেই পরিবাহিত হতো। পথটি বন্ধ হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির এই আকস্মিক ধাক্কায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে রেকর্ড অগ্নিমূল্য দেখা দিয়েছে, যার ফলে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
প্রতিবেশীদের ঘরে হাহাকার, চার দিনের কর্মদিবস ও রেশনিং ব্যবস্থা
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। গত তিন মাসে সেখানে পেট্রোলের দাম প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রোল ৪৫৮.৮৬ পাকিস্তানি রুপি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫৭.৩৪ টাকা) এবং ডিজেল ৫২০.৪২ পাকিস্তানি রুপিতে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭৮.৪৫ টাকা) বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বাঁচাতে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়ে দেশে চার দিনের কর্মদিবস চালু করেছে এবং বহু স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নেপাল এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দামি পেট্রোল বিক্রয়কারী দেশে পরিণত হয়েছে। আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এই দেশে গত জানুয়ারি মাসে যে পেট্রোলের দাম ১৩৭ নেপালি রুপি ছিল, তা এপ্রিলের মধ্যে দফায় দফায় বেড়ে ২১৯ নেপালি রুপি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২৩.৫৮ টাকা) ছুঁয়েছে। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন লেগেছে।
শ্রীলঙ্কার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৩৯৮ শ্রীলঙ্কান রুপি এবং ডিজেলের দাম ৩৮২ রুপিতে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শ্রীলঙ্কায় শুরু হয়েছে জ্বালানির রেশনিং ব্যবস্থা। অন্যদিকে, চাহিদার ৯৫ শতাংশ তেল আমদানি করা বাংলাদেশেও পেট্রোল-ডিজেলের দাম ১০ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে বহু জেলার পাম্পগুলোতে তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘ লাইন পড়ছে।
ধাক্কা সামলে ভারতের বাজার এখনও অনেকটাই স্থিতিশীল
প্রতিবেশী দেশগুলোর এই ভয়াবহ ডামাডোলের মধ্যেও ভারতের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মে ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি মাত্র ৩.১৪ টাকা (৩.৪ শতাংশ) এবং ডিজেলের দাম ৩.১১ টাকা (৩.৬ শতাংশ) বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধির পুরো বোঝা ভারতের সাধারণ জনগণের ওপর চাপতে দেয়নি কেন্দ্র সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো। ভর্তুকি ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিশ্ববাজারের বড় ধাক্কাটি নিজেদের কাঁধে নেওয়ার ফলেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার এখনও বড় ধরনের সংকট এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
