সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলা, ভাঙা চশমা হাতে বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলা, ভাঙা চশমা হাতে বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে থাকার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে তাঁকে উদ্ধার করে আনা সম্ভব হয়। এই হামলার পর নিজের ভাঙা চশমা ও ছেঁড়া শার্ট সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “মেরে ফেলতে চেয়েছিল আমাকে।”

পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ

এই হামলার তীব্র নিন্দা করে ঘটনার পেছনে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরের সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট দিয়ে তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং এই নিন্দনীয় ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দূর-দূরান্তের কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে বহিরাগতদের এনে আগে থেকেই ওই এলাকায় ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। তৃণমূল নেতার দাবি, পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে শুরু করে সোনারপুরের কামরাবাদ পর্যন্ত সর্বত্র কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিজেপি কর্মীরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা তাঁর গতিপথ আটকে গাড়ি ধাওয়া করে এবং জুতো ও ডিম ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পরনের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যাওয়া এবং চশমা ভেঙে যাওয়ার পর মাথা বাঁচাতে একটি ক্রিকেট হেলমেট পরে হেঁটে নিহত কর্মীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয় তাঁকে।

প্রশাসনের ব্যর্থতা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছেও চরম ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক। একই সঙ্গে এই ঘটনা রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দায়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানার পুলিশ-প্রশাসনকে তীব্র নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি সম্পর্কে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে আগে থেকে জানানো সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কোনও পুলিশের দেখা মেলেনি। কার্যত তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে এই হিংসাত্মক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার জেরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই চরম সংঘাত আগামী দিনে রাজনৈতিক জমি দখলের লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *