হাত বাড়িয়ে টাকা নেওয়ার রেকর্ড নেই কোনো মুখ্যমন্ত্রীর, নারদ অস্ত্রেই শুভেন্দুকে নজিরবিহীন আক্রমণ অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতনের বাসভবনে শনিবার দুপুরে আচমকাই হাজির হন সিআইডি (CID) আধিকারিকরা। যদিও সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরবর্তীকালে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি অতীতের নারদ স্টিং অপারেশনের প্রসঙ্গ টেনে এনে শুভেন্দুকে নজিরবিহীন কটাক্ষ করেছেন তিনি।
তৃণমূলের চোর অপবাদের পালটা তোপ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ইডি, সিবিআই, সিআইডি এবং কেএমসি-র মতো সংস্থাকে সক্রিয় করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি অতীতের মুখ্যমন্ত্রীদের সততার খতিয়ান তুলে ধরেন। অভিষেক বলেন, প্রফুল্ল সেন, প্রফুল্ল ঘোষ, অজয় মুখোপাধ্যায়, বিধানচন্দ্র রায় থেকে শুরু করে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এ রাজ্যের কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে কোনোদিন ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা যায়নি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তাঁর সংযোজন, অমিত শাহের পদলেহন করে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মাথায় একাধিক ইডি-সিবিআই কেস নিয়ে এখন অনেকে বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন। এর আগে কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে এমন দু’কান কাটার মতো হাত বাড়িয়ে টাকা নিতে দেখা যায়নি। এরা আবার তৃণমূলকে চোর বলে।
ভবানীভবনে তলব ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
শনিবার শান্তিনিকেতনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলেও, সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর উদ্দেশ্যে একটি নোটিশ দিয়ে এসেছেন। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার বেলা ১২টায় তাঁকে ভবানীভবনে তলব করেছে সিআইডি। তবে এই তলবে বিন্দুমাত্র দমে যেতে রাজি নন তৃণমূল সাংসদ। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সির এই তৎপরতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লুকানোর কিছু নেই এবং তিনি ময়দান ছাড়বেন না। তিনি গদ্দার নন এবং ১০ পুরুষ এলেও তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ক্ষমতা থাকলে তাঁকে গ্রেফতার করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিষেক জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় তিনি আইনি সাহায্য নেবেন।
