হিসাবে কোটি কোটি টাকার গরমিল, হু-হু করে কমছে রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ারের দাম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আর্থিক তছরুপ এবং আয়ের হিসাবে কোটি কোটি টাকার কারচুপির অভিযোগে চরম সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারক সংস্থা রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড (আরইএল)। শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সেবি (সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া) এই অনিয়ম প্রকাশ্যে আনতেই দালাল স্ট্রিটে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। নিজেদের পুঁজি বাঁচাতে সংস্থাটির শেয়ার বিক্রি করার জন্য লগ্নিকারীদের মধ্যে রীতিমতো হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। ফলে টানা দুই কার্যদিবস ধরে হু-হু করে নামছে রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ারের দাম, যা সামগ্রিক শেয়ারবাজারে বড়সড় অশনিসঙ্কেত তৈরি করেছে।
পরপর দুই দিন লোয়ার সার্কিট, তলানিতে বাজারমূল্য
বাজার খোলার পর থেকেই রাজেশ এক্সপোর্টসের স্টক বিক্রির ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) এবং বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই) উভয় বাজারেই শেয়ারটির দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে লোয়ার সার্কিট সীমা ছুঁয়ে ফেলে। দুই দিনের টানা পতনে এনএসইতে শেয়ারের মূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৭৩ টাকা এবং বিএসইতে তা ৯৯.৪৫ টাকায় নেমে এসেছে। লগ্নিকারীদের এই গণহারে শেয়ার বিক্রির জেরে সংস্থাটির বাজারমূল্য এক ধাক্কায় কমে ১,৩৩৪ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই পতনের ধারা আপাতত বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
সেবির বিস্ফোরক রিপোর্ট ও কারচুপির উৎস
গত ৩ জুন রাজেশ এক্সপোর্টসের বিরুদ্ধে ১০৯ পাতার একটি অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করে সেবি। সেখানে বলা হয়েছে, গত পাঁচটি অর্থবর্ষ ধরে এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের আর্থিক বিবরণীতে নজিরবিহীন মিথ্যা তথ্য ও রাজস্বের হিসাবে কারচুপি করেছে এই স্বর্ণসংস্থা। সেবির দাবি অনুযায়ী, সংস্থাটি প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার ঘোষিত আয়ের হিসাবে গরমিল করেছে, যা বিশ্বের অনেক দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়েও বেশি। তদন্তে দেখা গেছে, সংস্থাটির রাজস্ব অবাস্তবভাবে ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি রাজেশ এক্সপোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও রাজেশ মেহতার স্টক লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং অবিলম্বে সঠিক আর্থিক তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট স্বর্ণসংস্থাটি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
