১০০ বছরে আডবাণী, মোদীর আবেগঘন বার্তায় ফিরল কোন অজানা স্মৃতি!

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় রাজনীতির ধ্রুবতারা লালকৃষ্ণ আডবাণী: এক বর্ণময় জীবনপঞ্জি
নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে লালকৃষ্ণ আডবাণী এক অবিস্মরণীয় নাম। দেশভাগের যন্ত্রণা থেকে উঠে এসে যিনি শূন্য থেকে গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল রাজনৈতিক সাম্রাজ্য, সেই প্রবীণ নেতার জীবন একাধারে সংগ্রাম এবং সাফল্যের আখ্যান। ১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর সিন্ধ প্রদেশে জন্মগ্রহণ করা আডবাণী বর্তমানে শততম বর্ষে পদার্পণ করেছেন। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ প্রদান করা হয়েছে।
আরএসএস থেকে বিজেপির উত্থান
১৯৪০-এর দশকে আরএসএস-এর প্রচারক হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত আডবাণীর। জনসঙ্ঘ থেকে পরবর্তীতে বিজেপি—দলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তাঁর সুনিপুণ নেতৃত্বেই ১৯৮৯ সালে কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের পতন ঘটে এবং ১৯৯৬ সালে বিজেপি ভারতের বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
অটল-আডবাণী যুগলবন্দি ও জরুরি অবস্থা
ভারতীয় রাজনীতিতে অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর বন্ধুত্ব এক অনন্য নজির। বহু দশক ধরে কোনো প্রকার অন্তর্দ্বন্দ্ব ছাড়াই তাঁরা দেশ ও দলকে পরিচালনা করেছেন। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আডবাণীর ভূমিকা ছিল আপোসহীন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘আ প্রিজনার্স স্ক্র্যাপ-বুক’-এ তৎকালীন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে নাৎসি জার্মানির সাদৃশ্য তুলে ধরে তিনি দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন।
রথযাত্রা ও রাম মন্দির আন্দোলন
ভারতীয় রাজনীতির মোড় ঘোরানো সোমনাথ থেকে অযোধ্যা রথযাত্রার রূপকার ছিলেন আডবাণী। এই ঐতিহাসিক যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছায়ার মতো ছিলেন তৎকালীন তরুণ সংগঠক নরেন্দ্র মোদী। রাম মন্দিরের লক্ষ্যে আডবাণীর এই কঠোর অবস্থানই পরবর্তীতে অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত করেছিল। গান্ধীনগর কেন্দ্র থেকে তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়েও নরেন্দ্র মোদীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল স্মরণযোগ্য।
প্রশাসক ও ব্যক্তি আডবাণী
রাজনীতির মঞ্চে তেজস্বী বিরোধী নেতা হওয়ার পাশাপাশি আডবাণী ছিলেন একজন সুদক্ষ প্রশাসক। ১৯৭৭ সালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর আইন প্রণয়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
ব্যক্তিজীবনে আডবাণী অত্যন্ত সাদামাটা ও শৃঙ্খলাপরায়ণ। বইপ্রেমী ও চলচ্চিত্র অনুরাগী হিসেবে তাঁর পরিচিতি সর্বজনবিদিত। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি বাঁকে তাঁর প্রয়াত সহধর্মিনী কমলা আডবাণী ছিলেন তাঁর অবিচল শক্তির উৎস।
করাচির এক সাধারণ তরুণ থেকে ভারতের রাজনীতির মহীরূহ হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ যাত্রায় লালকৃষ্ণ আডবাণী দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করেছেন। তাঁর এই বর্ণময় জীবন ও দেশের প্রতি অসামান্য অবদানের জন্য আজ দেশবাসী তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছে।
