৪০ ঘণ্টার সাসপেন্স শেষ! জিনপিংয়ের ‘ইমোশনাল ডিপ্লোমেসি’র জালে ট্রাম্প, বেজিং থেকে ফিরলেন খালি হাতে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশের মাটিতে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবং বড় কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির চমক দিতে বেজিং সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় চিনে কাটানোর পর কার্যত কোনো সুনির্দিষ্ট বড় চুক্তি ছাড়াই ওয়াশিংটনে ফিরতে হচ্ছে তাঁকে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাতা রাজকীয় আতিথেয়তা এবং ‘ইমোশনাল ডিপ্লোমেসি’ বা আবেগীয় কূটনীতির জালে জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধিদলকে খালি হাতেই ফিরতে হলো বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ২১ তোপধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো, বেজিংয়ের বিখ্যাত রোস্টেড ডাক (হাঁসের মাংস) সহযোগে নৈশভোজ কিংবা সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ ‘সিক্রেট জংনানহাই গার্ডেন’ ঘুরিয়ে দেখানো—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই সফরে জাঁকজমকের কোনো কমতি ছিল না। অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্কের মতো চিনের মাটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ মার্কিন শিল্পপতিরাও, যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক। তবে এই হেভিওয়েট উপস্থিতির পরেও কোনো বড় বাণিজ্যিক চুক্তি সই না হওয়ায় পুরো সফরটি শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনের চেয়ে একটি রাজনৈতিক শো বা ‘পিকনিক’-এ রূপ নেয়।
চিন-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক দূরত্বের কারণ
সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকার অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা এবং চিনের বাজার ধরা। কিন্তু আমেরিকার পক্ষ থেকে বোয়িংয়ের ২০০টি বিমান ক্রয়, ১০ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন ও গরুর মাংস আমদানি এবং চিনের তেল কেনার আগ্রহের বিষয়ে ট্রাম্প মৌখিক দাবি করলেও, চিনের পক্ষ থেকে এর কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি। উল্টো বোয়িংয়ের আশানুরূপ অর্ডার না আসায় মার্কিন শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে।
এর পাশাপাশি ভূ-রাজনীতি ও কৌশলগত ক্ষেত্রে দুই দেশের গভীর মতপার্থক্য এই ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ। ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে চিন কোনো স্পষ্ট আশ্বাস দেয়নি, বরং মার্কিন হামলার প্রচ্ছন্ন সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য অত্যন্ত জরুরি ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ সরবরাহের বিষয়েও দুই দেশের আলোচনা কোনো পরিণতি পায়নি।
আমেরিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
এই সফরের সম্ভাব্য প্রভাব মার্কিন রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বেশ নেতিবাচক হতে পারে। আমেরিকার মাটিতে ট্রাম্পের এই সফর নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কোনো বড় চুক্তি করতে না পারায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ধাক্কা খেতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তাইওয়ান ইস্যুতে। বন্ধ দরজার বৈঠকে শি জিনপিং তাইওয়ান প্রশ্নে ট্রাম্পকে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে, যার পর ট্রাম্প সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেন। চিনের এই অনমনীয় অবস্থানের সামনে ট্রাম্পের এমন নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকার ‘সুপারপাওয়ার’ বা পরাশক্তি সুলভ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ফলে এই হাই-প্রোফাইল সফর থেকে মার্কিন অর্থনীতি বা কূটনীতি—কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিক কোনো বড় সাফল্য পায়নি।
