৪৪ বছর পর লেবাননের ঐতিহাসিক বেউফোর্ট দুর্গে উড়ল ইজরায়েলের পতাকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বেউফোর্ট দুর্গ দীর্ঘ ৪৪ বছর পর পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী। হেজবোল্লার প্রতিরোধ ভেঙে দক্ষিণ লেবাননের বেশ গভীরে প্রবেশ করে নেতানিয়াহুর সেনারা এই ঐতিহাসিক দুর্গের শীর্ষে ইহুদি পতাকা উত্তোলন করেছে। গত ২৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার লেবাননের ভূখণ্ডের এতখানি অভ্যন্তরে প্রবেশ করল ইজরায়েল সেনা, যা চলতি সীমান্তে চলমান সংঘাতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কৌশলগত অঞ্চলে তীব্র হামলা ও দুর্গ দখল
চলতি বছরের মার্চের শুরুতে ইজরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলটি ছিল ইজরায়েলি বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বেউফোর্ট দুর্গ ও সংলগ্ন পাহাড়টি হেজবোল্লার অন্যতম প্রধান শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এই ঘাঁটিটি ধ্বংস করতে গত কয়েকদিন ধরে লেবাননের নাবাতিয়ে শহর এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইজরায়েল। পরবর্তীতে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইজরায়েলি সেনারা সীমান্তবর্তী মেতুলার বিপরীতে লিতানি নদীর ৯০ ডিগ্রি বাঁক অতিক্রম করে বেউফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি সালুকি নদী এলাকায় তীব্র স্থল অভিযান চালায়। হেজবোল্লার সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে চালানো এই সাঁড়াশি অভিযানের মুখে শেষ পর্যন্ত দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইজরায়েল সেনা।
অভিযানের কারণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
এর আগে ১৯৮২ সালে প্রথমবার এই দুর্গটি দখল করেছিল ইজরায়েলি সেনা এবং ২০০০ সালে সেনা প্রত্যাহারের পূর্ব পর্যন্ত অঞ্চলটি তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। দীর্ঘ সময় পর এই দুর্গ পুনরায় দখলের বিষয়ে ইজরায়েল সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের সাধারণ নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হেজবোল্লার এই শক্তিশালী ঘাঁটিটি ধ্বংস করা অপরিহার্য ছিল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলগত পাহাড় ও প্রাচীন দুর্গটি হাতছাড়া হওয়ায় দক্ষিণ লেবাননে হেজবোল্লার প্রতিরোধ ব্যবস্থা বড়সড় ধাক্কা খেল। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী দিনে এই অভিযানের পরিধি আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত করা হবে, যার ফলে এই অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র রূপ নিতে পারে।
