৮০ কোটি টাকার মালিকের করুন পরিণতি! বৃদ্ধাশ্রমে নিঃসঙ্গ মৃত্যু, শেষকৃত্যেও এল না কেউ

পদ্মাশ্রয়ী সাহিত্যিকের করুণ পরিণতি: ৮০ কোটি টাকার মালিক হয়েও ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে
বারাণসীর এক মর্মান্তিক ঘটনা বর্তমান সমাজের পারিবারিক অবক্ষয়ের নগ্ন চিত্রটি আবারও সামনে এনেছে। ৮২ বছর বয়সী প্রথিতযশা আধ্যাত্মিক সাহিত্যিক এবং পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত শ্রীনাথ খণ্ডেলওয়ালের শেষ জীবন কেটেছে এক বৃদ্ধাশ্রমে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, প্রায় ৮০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও শেষ সময়ে তাঁর পাশে নিজের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পর মরদেহ গ্রহণ কিংবা শেষকৃত্য সম্পন্ন করতেও তাঁর সন্তানরা চরম অনীহা প্রদর্শন করেছেন।
সাহিত্য সাধনা ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
কাশীর বাসিন্দা শ্রীনাথ খণ্ডেলওয়াল ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান সাহিত্যিক। আধ্যাত্মিক ও সাহিত্য জগতে তাঁর পদচারণা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি ১০০-র বেশি বই রচনা করেছেন। তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং মেয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। উচ্চশিক্ষিত এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের অভিভাবক হওয়া সত্ত্বেও শেষ বয়সে তাঁর ভাগ্যে জুটেছে চরম অবমাননা ও একাকীত্ব।
সম্পত্তি গ্রাস ও বৃদ্ধাশ্রমের নির্বাসন
অভিযোগ উঠেছে, শ্রীনাথ খণ্ডেলওয়াল যখন তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনায় মগ্ন ছিলেন, সেই সুযোগে তাঁর সন্তানরা কৌশলে তাঁর বিপুল সম্পত্তি নিজেদের নামে হস্তগত করে। সম্পদ ও বিষয়-সম্পত্তি হাতবদল হওয়ার পরই শুরু হয় ভিন্ন চিত্র। অসুস্থ বাবাকে অসহায় অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তাঁর সন্তানরা। পরবর্তীতে স্থানীয় সমাজসেবীরা তাঁকে উদ্ধার করে কাশীর একটি কুষ্ঠাশ্রম ও বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় দেন। সেখানে মানবিক সেবায় জীবন অতিবাহিত হলেও, তাঁর নিজ সন্তানদের তরফ থেকে কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি।
মানবিকতার অপমৃত্যু ও শেষ বিদায়
সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করলে তাঁকে আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাবার মৃত্যুর খবর সন্তানদের জানানোর পরও তারা চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেয়। ব্যক্তিগত ‘ব্যস্ততা’র অজুহাত দেখিয়ে ছেলেরা বাবার মুখ দেখতে অস্বীকার করে, এমনকি আইনজীবী মেয়েও মুখ ফিরিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত সমাজসেবী আমন ও তাঁর সহযোগীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদায় এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।
সামাজিক প্রভাবের বিশ্লেষণ
শ্রীনাথ খণ্ডেলওয়ালের এই জীবনাবসান কেবল একটি পারিবারিক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ভয়াবহ অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়। আইন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সফল মানুষেরা পারিবারিক সম্পর্কে যে পরিমাণ দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন, এই ঘটনা তারই প্রতিফলন। বিপুল বিত্ত ও খ্যাতির অধিকারী হয়েও নিজের পরিবারে ব্রাত্য হয়ে থাকা এই সাহিত্যিকের জীবনকাহিনি আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। এই ঘটনা বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
নিহত ব্যক্তিত্ব: শ্রীনাথ খণ্ডেলওয়াল (৮২ বছর)।
পরিচয়: বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক সাহিত্যিক ও ২০২৩ সালের পদ্মশ্রী জয়ী।
সম্পত্তি: প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী।
পরিবার: দুই ছেলে (প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী) এবং এক মেয়ে (সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী)।
মৃত্যুর স্থান: কাশীর একটি বৃদ্ধাশ্রমের আইসিইউ।
শেষকৃত্য: সন্তানদের অনুপস্থিতিতে সমাজসেবীদের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের সহায়তায় সম্পন্ন।
