৯৪০ দিন পর জেগে উঠল কেন্দ্র, নারী সংরক্ষণ বিল কি তবে অতীত?

দীর্ঘ ৯৪০ দিন বাক্সবন্দী থাকার পর অবশেষে কার্যকর হতে চলেছে ‘নারী সংরক্ষণ আইন’। ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এই হঠাৎ সক্রিয়তার মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল’ নিয়ে সরকারের উদ্বেগ। লোকসভায় আসন সংখ্যা ৮৫০ করার লক্ষ্যে আনা এই নতুন বিলটি নিয়ে সংসদে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া এখন অনিশ্চিত। সংসদীয় কার্যপ্রণালীর ‘রুল ৬৬’ অনুযায়ী, নতুন বিল পাস না হলে পুরনো আইনের বৈধতা সংকটের মুখে পড়তে পারে। সেই সাংবিধানিক ঝুঁকি এড়াতে এবং নারী সংরক্ষণ আইনের অস্তিত্ব সুরক্ষিত রাখতেই সরকার এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও জড়িত। বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভার আসন বাড়িয়ে ৮৫০ করার নেপথ্যে হিন্দি বলয়ের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব আনুপাতিক হারে কমে যেতে পারে। পর্যাপ্ত সংখ্যার অভাব থাকায় সরকার নারী সংরক্ষণ আইনের আড়ালে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে বলে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর দাবি। একইসঙ্গে, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসকে এই আইনের সাথে জুড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
