টাকা জমানোর সুবর্ণ সুযোগ! আরবিআই-এর নতুন নিয়মে এফডিতে কত লাভ পাচ্ছেন?

শেয়ার বাজারের অস্থিরতায় ভরসা ফিক্সড ডিপোজিট: বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ কৌশল
পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজার থেকে পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতায় দালাল স্ট্রিটে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি)। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট ৬.৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় আমানতকারীরা বর্তমানে উচ্চ সুদের হারের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ক্ষুদ্র অর্থলগ্নি ব্যাঙ্কগুলোতে ৮ শতাংশ থেকে ৮.৫ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলোতে ৭ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোতে ৬.৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বার্ষিক সুদ পাওয়া যাচ্ছে। প্রবীণ নাগরিকরা অতিরিক্ত ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা পাচ্ছেন।
মুদ্রাস্ফীতির হার ৪.৬ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এফডি’র বর্তমান সুদ বিনিয়োগের প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা ‘ল্যাডারিং’ বা স্তরভিত্তিক বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন, যেখানে মূলধনকে বিভিন্ন মেয়াদে ভাগ করে বিনিয়োগ করলে একদিকে নগদের জোগান বজায় থাকে এবং অন্যদিকে সুদের হারের পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস পায়। ডিআইসিজিসি (DICGC)-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাঙ্কে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত বিমাভুক্ত থাকায় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মাত্রাও প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। ফলে স্থিতিশীল এবং নিশ্চিত রিটার্ন পেতে চাওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এফডি-তে বিনিয়োগ একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
