তাইওয়ানে নিষিদ্ধ সবজি পাচার করছে চিন! ভিয়েতনামের জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি

তাইওয়ানের কৃষি বাজারে অবৈধভাবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চীন অভিনব এক পাচার কৌশল বেছে নিয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির সরকারের দাবি, বেইজিং তাদের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভিয়েতনামের ছদ্মবেশে নাপা বাঁধাকপি ও শিতাকে মাশরুমের মতো নিষিদ্ধ সবজি রপ্তানি করছে। মূলত চীনের এসব পণ্য ভিয়েতনামে নিয়ে গিয়ে সেখানকার মোড়কে নতুন করে সাজানো হয় এবং জাল নথিপত্র ব্যবহার করে সেগুলোকে ভিয়েতনামি পণ্য হিসেবে তাইওয়ানে প্রবেশ করানো হচ্ছে।
প্রতারণা রুখতে বৈজ্ঞানিক তদন্তের উদ্যোগ
তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অভিযোগ, মাত্র ৪১০ মার্কিন ডলার খরচ করলেই ভিয়েতনামের ভুয়া ‘সার্টিফিকেট অফ অরিজিন’ বা পণ্যের উৎস সনদ পাওয়া যাচ্ছে। এই জাল সনদ ব্যবহার করে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিটি কনটেইনার থেকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা লুটছে। এই বিশাল অর্থনৈতিক জালিয়াতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি রুখতে তাইওয়ানের কৃষি মন্ত্রণালয় এখন বৈজ্ঞানিক পন্থায় পণ্যের উৎস পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে ভিয়েতনামের কৃষিজমির ওপর আকাশসীমা থেকে বিশেষ জরিপ চালানো হবে যাতে ওই অঞ্চলের প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণের সামঞ্জস্য যাচাই করা যায়।
আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তজনা এখন সরাসরি বাণিজ্যিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ২০২১ সাল থেকে চীন দফায় দফায় তাইওয়ানি আনারসসহ বিভিন্ন ফল ও সামুদ্রিক পণ্য নিষিদ্ধ করার পর তাইওয়ানও ১০০০-এর বেশি চীনা কৃষিপণ্যের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবৈধ অনুপ্রবেশ কেবল বাণিজ্যিক প্রতারণা নয়, বরং এটি তাইওয়ানের স্থানীয় কৃষকদের বাজার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি গভীর কৌশল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা এই পাচার প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এক ঝলকে
- নিষিদ্ধ চীনা সবজি ভিয়েতনামের মোড়কে জাল সনদে তাইওয়ানে পাচার করা হচ্ছে।
- জালিয়াতি ধরতে ভিয়েতনামের ওপর আকাশপথে জরিপ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পরিকল্পনা করেছে তাইওয়ান।
- সামান্য অর্থ ব্যয়ে ভুয়া নথিপত্র জোগাড় করে ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা মুনাফা করছে।
- এই ঘটনাকে তাইওয়ানের অর্থনীতির ওপর চীনের পরোক্ষ চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
