নির্বাচন কমিশনের তল্লাশিতে বাংলা যেন মদের খনি! ১৫১ কোটি টাকার মদ বাজেয়াপ্ত করে দেশে নয়া রেকর্ড

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ও উপনির্বাচনের আবহে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টার এক চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। নগদ অর্থ, সোনা বা মাদক উদ্ধারের নিরিখে তামিলনাড়ু শীর্ষে থাকলেও, মদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে অন্য সব রাজ্যকে কয়েক যোজন পিছনে ফেলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী মরসুমে বাংলা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬৪৮ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৫১ কোটি টাকারও বেশি।
প্রভাব বিস্তারের অপকৌশল ও কমিশনের কড়াকড়ি
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্রামীণ ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ভোটারদের প্রলোভন দেখাতে মদ ব্যবহার করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। তবে এবারের বিপুল পরিমাণ এই উদ্ধার সেই অভিযোগকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। মূলত জাতীয় ও রাজ্য সড়ক, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এলাকা এবং বিভিন্ন সন্দেহভাজন গুদামে তল্লাশি চালিয়ে এই সাফল্য পেয়েছে কমিশন। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং আবগারি দফতরের যৌথ নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদের চালান ধরা সম্ভব হয়েছে।
পরিসংখ্যানে নজরকাড়া বৈষম্য
গোটা দেশে নির্বাচনের সময় মোট ৬৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৯৩ লিটার মদ আটক হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই মোট পরিমাণের সিংহভাগই উদ্ধার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। যেখানে তামিলনাড়ু নগদ ও অন্যান্য উপহার মিলিয়ে ৬৬২ কোটি টাকা মূল্যের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে তালিকায় শীর্ষে, সেখানে শুধু মদের ক্ষেত্রে বাংলার এই একক আধিপত্য নির্বাচন কমিশনের কপালে উদ্বেগের ভাঁজ ফেলেছে। অবৈধ উপায়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার এই বিপুল চেষ্টা নির্বাচনী স্বচ্ছতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এক ঝলকে
- পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের মধ্যে একা পশ্চিমবঙ্গ থেকেই ১৫১ কোটি টাকার মদ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
- রাজ্য জুড়ে মোট ৫৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬৪৮ লিটার মদ উদ্ধার করেছে কমিশন ও আবগারি দফতর।
- সারা দেশে বাজেয়াপ্ত হওয়া মোট মদের সিংহভাগই উদ্ধার হয়েছে বাংলা থেকে।
- ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মূলত গ্রামীণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এই মদ মজুত করা হয়েছিল।
