মাছেভাতে শুভেন্দু: পান্তা থেকে ইলিশ ভাপা, ছেলের জয়ে পাতের মেনু সাজাচ্ছেন মা

দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর নাম ঘোষণা করার পর থেকেই খুশির জোয়ার কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জ’ সংক্ষেপে। ২০৭টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজেপি সরকার গড়তে চলায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে গিয়েছে। বিশেষ করে বিরোধীদের করা ‘বিজেপি আমিষবিরোধী’ প্রচারকে ছাপিয়ে এখন ভাবী মুখ্যমন্ত্রীর বাঙালিয়ানা ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
পান্তা থেকে ইলিশভাপা ও শান্তিকুঞ্জের অন্দরমহল
মা গায়ত্রী দেবীর কাছে তাঁর মেজো ছেলে ‘বুবাই’ আজও সেই ঘরোয়া খাবারের ভক্ত। জানা যাচ্ছে, ভাবী মুখ্যমন্ত্রী পুরোপুরি মাছেভাতে বাঙালি। সকালে রুটি ও ফল দিয়ে দিন শুরু হলেও দুপুরে মাছের ঝোল আর ভাত তাঁর প্রিয় পদের তালিকায় থাকে। বিশেষ করে ইলিশভাপা, ইলিশভাজা আর পোস্তর প্রতি তাঁর টান প্রশ্নাতীত। আশি ছুঁইছুঁই গায়ত্রী দেবী আবেগপ্রবণ হয়ে জানিয়েছেন, গ্রীষ্মের রাতে আলুসেদ্ধ দিয়ে পান্তা ভাত খেতেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন শুভেন্দু।
বাঙালিয়ানা বনাম রাজনৈতিক প্রচার
নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে যে জল্পনা ছড়ানো হয়েছিল, বাস্তব চিত্রটি তার বিপরীত। ভাবী মুখ্যমন্ত্রীর এই খাদ্যাভ্যাস প্রমাণ করে যে গেরুয়া শিবির বাংলার সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গেই একাত্ম হতে চাইছে। রবীন্দ্রসঙ্গীত আর ইলিশ মাছের ভোজের মাধ্যমে জয় উদযাপন করে বিজেপি বার্তা দিচ্ছে যে, তাদের সরকারে বাঙালিয়ানা বজায় থাকবে ষোলোআনা।
এক ঝলকে
- ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে সরকার গড়ছে বিজেপি এবং ভাবী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী।
- রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও শুভেন্দু অধিকারী পান্তা ভাত, ইলিশভাপা এবং পোস্ত খেতে অত্যন্ত পছন্দ করেন।
- বিরোধীদের ‘আমিষবিরোধী’ প্রচারের পালটা হিসেবে ভাবী মুখ্যমন্ত্রীর মাছেভাতে বাঙালিয়ানা এখন চর্চার কেন্দ্রে।
- শান্তিকুঞ্জ ও কাঁথিতে উৎসবের মেজাজ, প্রতিবেশী ও পরিজনদের মধ্যে জয়ের উল্লাস তুঙ্গে।
