ক্ষমতায় ফিরতেই ডিএ নিয়ে তৎপর নবান্ন, বড় অঙ্কের বকেয়া মেটানোর পথে রাজ্য
রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ প্রদানের বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, কর্মীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে এবার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে অর্থ দফতর।
কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যে কর্মরত অল ইন্ডিয়া সার্ভিস ক্যাডার বা আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় হারেই ডিএ পেয়ে থাকেন। তবে কেন্দ্রীয় ঘোষণার পর রাজ্য সরকারকে তা কার্যকর করতে একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হয়। নবান্ন ইতিমধ্যেই সেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার ফলে এই উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের প্রাপ্ত ডিএ-র পরিমাণ একধাক্কায় অনেকটা বাড়তে চলেছে।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রত্যাশা
অন্যদিকে, সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মীদের নজর এখন অন্তর্বর্তী বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির দিকে। এই বৃদ্ধি কার্যকর হলে রাজ্যের কর্মীদের মোট ডিএ-র পরিমাণ দাঁড়াবে ২২ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধির কারণে এতদিন এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি আটকে ছিল। সরকারের নতুন মেয়াদে সেই আইনি বাধা কেটে যাওয়ায় এখন দ্রুত অর্ডার প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী।
কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক বর্তমানে ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরণের অসন্তোষের কারণ। সরকার দ্রুত বর্ধিত ভাতা কার্যকর করলে একদিকে যেমন কর্মীদের আর্থিক সংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে তেমনই কর্মক্ষেত্রে গতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই বাড়তি টাকা সরকারি কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- অল ইন্ডিয়া সার্ভিস ক্যাডারের অফিসারদের জন্য কেন্দ্রীয় হারে ৬০ শতাংশ ডিএ কার্যকর করতে বিজ্ঞপ্তি জারি করছে নবান্ন।
- রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য আগে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ফাইল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- নতুন হার কার্যকর হলে রাজ্য কর্মীদের মোট ডিএ হবে ২২ শতাংশ।
- কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র বর্তমান ব্যবধান ৩৮ শতাংশ কমানোই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
