ছুটির দিনেও আকাশ ভাঙবে বৃষ্টি, রাজ্যজুড়ে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া!

তপ্ত রোদের হাত থেকে রেহাই মিললেও রবিবারের ছুটির মেজাজে জল ঢালতে প্রস্তুত কালবৈশাখী। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দিনভর রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক দিনের মতো আজও উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইবে। তবে এই স্বস্তি সাময়িক, কারণ আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই আবহাওয়ার ভোলবদল ঘটতে চলেছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
কেন এই অকাল দুর্যোগ আর জলীয় বাষ্পের খেল
রাজ্যে এই মুহূর্তে ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার পেছনে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখাকে দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা। বর্তমানে হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গে একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি পূর্ব রাজস্থান থেকে পূর্ব ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি শক্তিশালী অক্ষরেখা। এই দুইয়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করছে, যা স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি করছে। এর ফলে রবিবার দিনভর বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ঘন্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
আগামী সপ্তাহের আবহাওয়া ও গরম বাড়ার ইঙ্গিত
আগামী কাল সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে এবং আকাশ পরিষ্কার হতে থাকবে। তবে বৃষ্টির দাপট কমতেই ফের চড়তে শুরু করবে পারদ। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি ও গরম দুই-ই পাল্লা দিয়ে বাড়বে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আপাতত স্বস্তির খবর নেই; সেখানে পার্বত্য জেলাগুলোতে আগামী কয়েক দিন বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। মূলত বঙ্গোপসাগরীয় আর্দ্র বাতাসের প্রভাবেই উত্তরবঙ্গে এই প্রাক-বর্ষার আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
