হতাশার ডার্বিতে গোল মিসের মহোৎসব, শেষ মুহূর্তের নাটকে পয়েন্ট ভাগ দুই প্রধানের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লিগের লড়াইয়ে টিকে থাকার লক্ষ্য নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিল কলকাতার দুই প্রধান। কিন্তু শতবর্ষ প্রাচীন চিরন্তন ডার্বির ফুটবলাররা যেন জেতার মানসিকতাই হারিয়ে ফেলেছিলেন। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে পেনাল্টি বক্সের সামনে ফুটবলারদের সীমাহীন ব্যর্থতা, একের পর এক মিস পাস এবং রক্ষণের কঙ্কালসার চেহারা গোটা ম্যাচ জুড়ে শুধুই হতাশা তৈরি করল। সুযোগ নষ্টের এই চরম প্রদর্শনীর পর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ১-১ গোলে ড্র হলো ঐতিহ্যবাহী বড় ম্যাচ। দুই দলের লিগ জয়ের পথ মসৃণ করার এই ম্যাচে গোল করেছেন ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড ও মোহনবাগানের কামিন্স।
রক্ষণভাগের হতশ্রী পারফরম্যান্স ও ফাইনাল থার্ডের ব্যর্থতা
ম্যাচের শুরু থেকেই লিগ টেবিলের সমীকরণ মাথায় রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে মোহনবাগান। মনবীর সিং ও লিস্টন কোলাসোরা দুই উইং ব্যবহার করে মুহুর্মুহু আক্রমণ শানালেও ফাইনাল থার্ডে এসে খেই হারিয়ে ফেলেন তারা। অন্যদিকে সবুজ-মেরুন ডিফেন্সের ফাঁক গলে বারবার গোলের সুযোগ তৈরি করে লাল-হলুদ শিবির। ম্যাচের ১৩ মিনিটে অ্যান্টনের শট বারপোস্টে লেগে ফিরে আসা, কিংবা ২৪ মিনিটে সোয়বার্গের ফাঁকা গোলের সামনে বল রিসিভ করতে না পারার খামতি ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। একই ধারা বজায় রেখে দ্বিতীয়ার্ধে মনবীর, ম্যাকলারেন ও সাহালদের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার প্রবণতা ম্যাচটিকে কেবলই সুযোগ নষ্টের মহোৎসবে পরিণত করে।
কোচের স্ট্র্যাটেজি ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা
ম্যাচ থেকে পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিতে শেষ দিকে বড়সড় জুয়া খেলেন মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা। রক্ষণভাগ ফাঁকা করে তিনি চার বিদেশি ফরোয়ার্ডকে মাঠে নামিয়ে দেন। এর ফলে সবুজ-মেরুন রক্ষণ আরও আলগা হয়ে পড়ে এবং সেই সুযোগে ম্যাচের ৮৪ মিনিটে চমৎকার গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। তবে লাল-হলুদ শিবিরের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রক্ষণ ধরে রাখতে না পারার চেনা ভুলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোল হজম করতে হয় তাদের। কামিন্সের চমৎকার হেডারে সমতায় ফেরে মোহনবাগান। শেষ পর্যন্ত এন্ড-টু-এন্ড ফুটবল হলেও দুই দলের যাচ্ছেতাই পাসিং ও ডিফেন্ডিংয়ের কারণে ডার্বি শেষ হলো অমীমাংসিতভাবেই।
