ইদে কুরবানি নিয়ে স্ত্রীর আপত্তি, কালনায় মর্মান্তিক পরিণতি টোটো চালকের – এবেলা

ইদে কুরবানি নিয়ে স্ত্রীর আপত্তি, কালনায় মর্মান্তিক পরিণতি টোটো চালকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সামনেই বকরি ইদ, তার আগেই এক চরম পারিবারিক অশান্তির জেরে আত্মঘাতী হলেন এক ব্যক্তি। পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার নান্দাই পঞ্চায়েতের নতুনগ্রাম এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম জাফর আলি শেখ (৫৪)। পেশায় তিনি একজন টোটো চালক ছিলেন। ইদের কুরবানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক বিবাদের সূত্রপাত

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও বকরি ইদে কুরবানি দেওয়ার জন্য একটি ছাগল কিনে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন জাফর আলি শেখ। তবে ইদ ও কুরবানির ধর্মীয় রীতিনীতি এবং সাম্প্রতিক কিছু আইনি বিধিনিষেধের কারণে তাঁর স্ত্রী এবার কুরবানি দিতে তীব্র আপত্তি জানান। স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বছর কুরবানি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু ধর্মীয় আবেগ জড়িত থাকায় স্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি জাফর। এই নিয়ে শুক্রবার রাতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি এবং কথা কাটাকাটি হয়। অভিমানের বশে জাফর এরপর নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরে সেখান থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কালনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

সামাজিক প্রেক্ষাপট ও মানসিক চাপ

মৃতের ছেলে বাদশা শেখ জানান, আইনি কড়াকড়ির কারণে এবার গরুর কুরবানি হবে না ভেবে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা আশঙ্কায় ছিলেন। সেই কারণেই তাঁর মা কুরবানি দিতে চাননি। অন্যদিকে, প্রতি বছরের চেনা রেওয়াজ বন্ধ করতে রাজি ছিলেন না তাঁর বাবা। উল্লেখ্য, দিন কয়েক ধরেই ধর্মাচরণের অঙ্গ হিসেবে প্রকাশ্যে পশুবলি বা কুরবানি প্রথা বন্ধের বিষয়টি রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হওয়ায় সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই বিভ্রান্তি এবং পারিবারিক মতভেদের জেরেই শেষ পর্যন্ত এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে নিজের জীবন দিয়ে চরম মূল্য চোকাতে হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *