বলিউড তারকাদের টেক্কা দিচ্ছে পঁচাত্তরের মোদির গ্ল্যামার, নেপথ্যে প্রাচীন ভারতীয় লাইফস্টাইল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পঁচাত্তর বছর বয়সেও চেহারার ঔজ্জ্বল্যে বলিউডের ষাটোর্ধ্ব সুপারস্টার সালমান খান কিংবা আমির খানকে অনায়াসে টেক্কা দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৫ সালের আইসিসি মহিলা ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য হরলীন দেওল প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে তাঁর এই ঝলমলে ত্বকের রহস্য জানতে চেয়েছিলেন। কোনো কৃত্রিম মেকআপ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর এই চিরতারুণ্যের ম্যাজিকের নেপথ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ প্রাচীন ভারতীয় ‘সাত্ত্বিক’ জীবনযাপন ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতা।
পবিত্রতা ও ভারসাম্যই সাত্ত্বিক ডায়েটের মূল ভিত্তি
সংস্কৃত ‘সত্ত্ব’ শব্দ থেকে আসা ‘সাত্ত্বিক’ জীবনযাত্রার মূল কথা হলো পবিত্রতা, মানসিক ভারসাম্য এবং ইতিবাচক শক্তি। হাজার বছর আগে ভগবত গীতা কিংবা ছান্দোগ্য উপনিষদে এই ডায়েটের কার্যকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে। এই খাদ্যতালিকায় থাকে সম্পূর্ণ নিরামিষ ও মাটির কাছাকাছি আয়োজন, যেমন— টাটকা ফল, সবুজ আনাজ, অঙ্কুরিত ছোলা, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, খাঁটি মধু, ঘি এবং দুধ। এতে বাসি তরকারি, অতিরিক্ত তেল-ঝাল-মশলা, প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার এবং আমিষ সম্পূর্ণরূপে বর্জিত।
শারীরিক সুস্থতা ও ত্বকের ঔজ্জ্বল্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাত্ত্বিক ডায়েট মানুষের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি রক্তচাপ, সুগার ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে চামড়ায় সহজে বলিরেখা পড়ে না এবং শরীরের ভেতর থেকে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক আভা প্রকাশ পায়। শান্ত মনে চিবিয়ে খাবার খাওয়া, মাঝেমধ্যে উপবাস করা, সকালে ঈষদুষ্ণ হলুদ জল পানের অভ্যাস এবং নিয়মিত আধ ঘণ্টার ধ্যান শরীর থেকে সমস্ত ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে দেয়। এই প্রাচীন নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাত্রার ফলেই বার্ধক্যকে জয় করে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
