৫২ বছর পর বিশ্বকাপে কঙ্গো, তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই ইবোলার মস্ত বড় বাধা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ ৫২ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কঙ্গো। আফ্রিকার এই দলটির ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ঘিরে যখন ফুটবলপ্রেমীদের মনে তুমুল উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই বড়সড় ধাক্কা দিল ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। কঙ্গোতে মহামারী রূপ নেওয়া এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের কারণে বিশ্বমঞ্চে নামার আগেই কঠিন আইনি ও স্বাস্থ্যগত নিয়মের বেড়াজালে বন্দি হতে হচ্ছে ‘দ্য লেপার্ডস’দের।
আমেরিকার কড়া নির্দেশ ও ২১ দিনের আইসোলেশন
কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ আমেরিকা ফুটবলারদের সুরক্ষায় চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিয়ম ভাঙলে টুর্নামেন্টে খেলাই অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আমেরিকার মাটিতে পা রাখার আগে কঙ্গো ফুটবল দলের প্রত্যেক সদস্যকে বেলজিয়ামে টানা ২১ দিনের ‘আইসোলেশন বাবল’-এ কাটাতে হবে। হোয়াইট হাউসের ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্সের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই নির্দিষ্ট সময়সীমা সফলভাবে পার করার পরেই আগামী ১১ জুন হিউস্টনে প্রবেশের অনুমতি পাবে কঙ্গো দল। এর ব্যতিক্রম হলে কঙ্গোকে দেশে ঢুকতে দেওয়া নাও হতে পারে।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ও ফুটবলারদের প্রস্তুতিতে প্রভাব
কঙ্গোতে বর্তমানে ইবোলা পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০০ ছুঁইছুঁই। এই মহামারীর প্রভাব সরাসরি পড়েছে দলের অনুশীলনে। ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে কঙ্গো দল নিজেদের দেশের প্রস্তুতি শিবির বাতিল করে বাধ্য হয়ে বেলজিয়ামে ঘাঁটি গেড়েছে। সেখানেই ডেনমার্ক ও চিলির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ১৭ জুন পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা থাকলেও, মাঠের মূল লড়াইয়ের আগে এই মানসিক ও শারীরিক বন্দিদশা ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
