তৃণমূলে ছুঁচোর কীর্তন, দিদির ফোসফাঁস করার ক্ষমতা নেই, তীব্র কটাক্ষ অধীরের – এবেলা

তৃণমূলে ছুঁচোর কীর্তন, দিদির ফোসফাঁস করার ক্ষমতা নেই, তীব্র কটাক্ষ অধীরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আদি বনাম নব্য দ্বন্দ্ব এবং শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এবার চরম আকার ধারণ করেছে। বারাসাতের চারবারের তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য সংঘাত নিয়ে এবার নজিরবিহীন ভাষায় কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘পক্ষাঘাতগ্রস্ত’ বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, দলে এখন ছুঁচোর কীর্তন শুরু হয়ে গিয়েছে।

কাকলী ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে কুরুচিকর ও নারীবিদ্বেষী আচরণের লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন, তার সময়কাল নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, ক্ষমতার অলিন্দ হাতবদল হতেই তৃণমূলের অন্দরে এই বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

ক্ষমতাহীন নেতৃত্ব ও গায়ের ঝাল মেটানোর রাজনীতি

একটি সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী অত্যন্ত চটকদার ভাষায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে বলেন, যখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গালি দিয়েছিলেন, তখন লোকসভার সদস্য বা মহিলা হিসেবে কাকলী দেবীর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। এতদিন পর হঠাত এই অভিযোগ তোলার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দলের তরফে আর তেমন কিছু করার ক্ষমতা নেই। তৃণমূলের লোকজন খুব ভালো করেই বুঝে গিয়েছে যে, দলের বিরুদ্ধে বা দলের নেতার বিরুদ্ধে কিছু বললে নেত্রী আর ‘ফোসফাঁস’ করতে পারবেন না। সিভিক পুলিশ বা গুন্ডা-বাহিনী দিয়েও মুখ বন্ধ করা যাবে না। ফলে এটাই সবার গায়ের ঝাল মেটানোর সুবর্ণ সুযোগ।

অধীর বাবুর অনুমান, এই অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে হয়তো দিল্লির নতুন শাসকদলকে এক ধরণের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বিক্ষুব্ধ নেতারা, যার অর্থ হলো তাঁরা আগে তৃণমূলে থাকলেও এখন আর মানসিকভাব সেখানে নেই।

দলবদলের জল্পনা ও ভাঙনের প্রভাব

লোকসভার স্পিকারকে লেখা চিঠিতে কাকলী ঘোষ দস্তিদার কল্যাণের কঠিন শাস্তির দাবি জানালেও, কল্যাণ শিবির একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টির গভীরতা আরও অনেক বেশি। দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সম্প্রতি কল্যাণীতে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন কাকলী। আই-প্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া এবং কল্যাণের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ঘোষণা মূলত চার দশকের সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর এই ধরণের হেভিওয়েট নেতাদের প্রকাশ্য কোন্দল এবং দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নালিশ করার প্রবণতা তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিতকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। একদিকে আইনি জালে শীর্ষ নেতৃত্বের জড়িয়ে পড়া, আর অন্যদিকে দলের অন্দরে এই চওড়া ফাটল আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *