আইটিআর ফর্মে বড় বদল, দুটি বাড়ি ও ভাড়ার আয়ে স্বস্তি দিচ্ছে আয়কর বিভাগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আয়কর বিভাগ ইতিমধ্যেই ই-ফাইলিং পোর্টালে আইটিআর-১, আইটিআর-২ এবং আইটিআর-৪-এর অনলাইন ফর্ম ও এক্সেল ইউটিলিটিগুলি প্রকাশ করেছে। তবে এবার করদাতাদের জন্য বার্ষিক এই প্রক্রিয়াটি সাধারণ হলেও, আইটিআর ফর্মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক, বেতনভোগী ব্যক্তি, বাড়ির মালিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতিকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভাড়াটে না দিলে মিলবে রেহাই, দুটি বাড়ির মালিকদের জটিলতা দূর
ভাড়া থেকে আয় করেন এমন করদাতাদের সুবিধার্থে এবার আইটিআর-১ এবং আইটিআর-৪ ফর্মে একটি বিশেষ কলাম যুক্ত করা হয়েছে। অনেক সময় বাড়িওয়ালারা চলতি অর্থবর্ষে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে বকেয়া ভাড়া আদায় করতে পারেন না। আগে এই অপ্রাপ্ত বা বকেয়া ভাড়া আলাদাভাবে দেখানোর কোনও সুযোগ ছিল না। নতুন এই কলামের ফলে করদাতারা তাঁদের প্রকৃত আয় ও প্রাপ্য ছাড়ের সঠিক তথ্য পেশ করতে পারবেন, যা কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াবে।
পাশাপাশি, যাদের দুটি বাড়ি রয়েছে তাঁদের জন্য এই বছর বড় স্বস্তি মিলেছে। এবার থেকে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে করদাতারা আইটিআর-১ এবং আইটিআর-৪-এর মতো সহজ ফর্ম ব্যবহার করেই দুটি বাড়ি থেকে হওয়া আয় দেখাতে পারবেন। আগে দুটি সম্পত্তির মালিকদের জটিল ফর্মে রিটার্ন দাখিল করতে হতো, যাতে কাগজের কাজ ছিল অনেক বেশি। এই পরিবর্তনের ফলে চাকরিজীবী ও পেশাজীবীরা অতিরিক্ত আবাসিক সম্পত্তির হিসাব অত্যন্ত সহজে দিতে পারবেন।
সহজ হলো মূলধনী লাভের হিসাব
বাজেটের পরিবর্তনের কারণে গত অর্থবর্ষে বিনিয়োগকারীদের ২৩ জুলাই, ২০২৪-এর আগের ও পরের মূলধনী লাভ (ক্যাপিটাল গেইনস) আলাদাভাবে দেখাতে হতো। আলাদা কর হারের কারণে এই প্রক্রিয়াটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। নতুন নিয়মে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভের পুরনো কর হারের জটিল কলামগুলি ফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য এবার রিটার্ন দাখিল করা অনেকটাই ঝামেলামুক্ত হবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য নতুন নিয়ম
আইটিআর-৪ ফর্মে অনুমানমূলক কর ব্যবস্থা (প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশন স্কিম) বেছে নেওয়া করদাতাদের জন্য এখন থেকে বিনিয়োগ এবং ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো করদাতাদের আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কর বিভাগ যাতে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং কর ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, ধারা ৮৯এ-এর অধীনে যোগ্য ভারতীয় বাসিন্দারা নির্দিষ্ট বিদেশী অবসরকালীন সুবিধা অ্যাকাউন্টে অর্জিত আয়ের ওপর দ্বৈত কর (ডুয়াল ট্যাক্স) থেকে অব্যাহতি দাবি করতে পারবেন।
আয়কর ফর্মের এই আধুনিকীকরণের ফলে করদাতাদের কর ফাঁকির প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষের কর দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। তবে আয়কর নোটিশ বা প্রক্রিয়াকরণে বিলম্বের মতো জটিলতা এড়াতে করদাতাদের অবশ্যই সমস্ত সংশোধিত ফর্ম মনোযোগ সহকারে দেখে এবং সঠিক নথি যাচাই করে রিটার্ন দাখিল করা প্রয়োজন।
