তৃণমূল কি সত্যিই সাফ! সুদীপের দলত্যাগের পর শুভেন্দুর তীব্র কটাক্ষে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ঝড় উঠেছে। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পর ঘাসফুল শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দিল্লিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শতাব্দী রায়ের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কলকাতায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে সদ্য ঘটে যাওয়া ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, তৃণমূলের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, পুরো দলটাই এবার ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। অহংকার, অত্যাচার, দুর্নীতি ও তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণেই রাজ্যের মানুষ বিদায় জানিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও মোদীর সফর ঘিরে তৎপরতা
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দলত্যাগ এবং সোমবারই স্পিকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের বৈঠকের সম্ভাবনা তৃণমূলের অস্বস্তি ও সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই আগামী সপ্তাহে দুই দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে নবগঠিত বিজেপি সরকারের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে উদযাপিত হতে চলা ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তাঁর এই সফর। আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, যার মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা। এই আয়োজন সফল করতে প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পরদিন, অর্থাৎ ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী, যার এবারের থিম ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগা’। কলকাতায় এই অনুষ্ঠানে অন্তত দেড় লক্ষ মানুষের সমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্রিগেড বা ধনধান্যে অডিটোরিয়ামের মতো বিকল্প ভেন্যু ও নিরাপত্তার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। একই সময়ে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের বাড়িতে ইডির হানা ও জিজ্ঞাসাবাদও শাসক শিবিরের উপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা
আন্তর্জাতিক মহলে মাসব্যাপী চলা আমেরিকা-ইরান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রবিবারই একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দাবি করেছেন, আজই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে। এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানিয়েছেন যে চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কিছু অসংগতির কারণে এখনই কোনো চুক্তি আশা করা ভুল হবে, যদিও আগামী দিনে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে এই চুক্তির সম্ভাবনা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হলেও, চূড়ান্ত সমঝোতা আজই হবে কি না তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে।
