ট্রাম্পের চুক্তি মানতে বাধ্য নয় ইজ়রায়েল, ওয়াশিংটন-তেল আভিভ দ্বন্দ্বে নতুন মোড় পশ্চিম এশিয়ায়! – এবেলা

ট্রাম্পের চুক্তি মানতে বাধ্য নয় ইজ়রায়েল, ওয়াশিংটন-তেল আভিভ দ্বন্দ্বে নতুন মোড় পশ্চিম এশিয়ায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সদ্য ঘোষিত শান্তিসমঝোতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে মুখ খুলল ইজ়রায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চুক্তিকে মান্যতা দেওয়া তেল আভিভের জন্য বাধ্যতামূলক নয় বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ভোরে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিসমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর পরই এই প্রতিক্রিয়া দেখায় ইজ়রায়েল। এর ফলে দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের মধ্যে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যা সমগ্র পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

নিরাপত্তায় আপস নয় ও সার্বভৌমত্বের বার্তা

ইজ়রায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির অত্যন্ত কড়া ভাষায় আমেরিকার এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানান যে, আন্তর্জাতিক কোনো সমঝোতার স্বার্থে ইজ়রায়েল নিজের দেশের নিরাপত্তা বিসর্জন দেবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইজ়রায়েল আমেরিকার কোনো অংশ নয়, বরং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। অতীতে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করার খেসারত ইজ়রায়েলকে দিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, হিজ়বুল্লা বা ইরানের মদতপুষ্ট অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর আক্রমণ মোকাবিলায় তেল আভিভের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত।

যদিও এই চুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসার জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন তিনি। জি৭ বৈঠক শেষে ট্রাম্প দেশে ফিরলেই আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং নিজেদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগ নিয়ে নেতানিয়াহু তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চান বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।

সংঘাতের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই বিরোধের মূল কারণ হলো মার্কিন শান্তিসমঝোতার শর্ত এবং মাঠপর্যায়ে ইজ়রায়েলের সামরিক অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য। ইরান শান্তিসমঝোতার অন্যতম পূর্বশর্ত ছিল লেবাননে হিজ়বুল্লার ওপর ইজ়রায়েলকে হামলা বন্ধ করতে হবে। অথচ ইজ়রায়েল এই শর্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রবিবারও লেবাননের রাজধানী বেইরুটে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। এর আগেও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার পারস্পরিক মতানৈক্য একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে।

এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলে আগামী দিনে পশ্চিম এশিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে চলেছে। প্রথমত, ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাট্‌জ় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে— গাজ়া, সিরিয়া এবং লেবাননে বিগত আড়াই বছরে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রায় ১০০০ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ডের একটি অংশও তারা ছেড়ে দেবে না। ইজ়রায়েলের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে আমেরিকা-ইরান শান্তিসমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, লেবানন ও সিরিয়া থেকে ইজ়রায়েল সেনা না সরালে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলা আরও তীব্র হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *