ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এবিভিপি কর্মীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ব্লেড দিয়ে কোপানোর অভিযোগ! গ্রেপ্তার দুই – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/06/18/tmcp-2026-06-18-17-51-08.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
কলেজের অন্দরে বহিরাগতদের দাদাগিরি এবং ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক ছাত্রকে অপহরণ করে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল দুই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতার বিরুদ্ধে। মালদার গাজোল এলাকার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আক্রান্ত ছাত্র অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর সক্রিয় কর্মী। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই আক্রান্তের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই তৃণমূল ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করেছে।
ব্লেড দিয়ে হামলা ও ছিনতাই
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ছাত্রের নাম অনিমেষ মণ্ডল, যিনি গাজোল কলেজের পঞ্চম সেমিস্টারের পড়ুয়া। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত শুভঙ্কর সাহা এবং রাজেশ রায় ওই কলেজের ছাত্র না হয়েও নিয়মিত ক্যাম্পাসে এসে সাধারণ পড়ুয়াদের হেনস্থা করত। এই বহিরাগত দৌরাত্ম্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন অনিমেষ। এই আক্রোশ থেকেই গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাস্তা থেকে তাঁকে জোরপূর্বক মোটরবাইকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গাজোল-বামনগোলা রাজ্য সড়কের আলতোল ফরেস্টে। অভিযোগ, জঙ্গলের অন্ধকারে তাঁকে বাঁশ ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি ব্লেড দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় কোপানো হয়। এরপর তাঁর কাছে থাকা নগদ আট হাজার টাকা এবং সোনার চেন ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কোনওক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন ওই ছাত্র।
রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদা জেলার ছাত্র রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এবিভিপির দাবি, সাধারণ পড়ুয়াদের স্বার্থে সরব হওয়ার কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতৃত্ব এই ঘটনার দায় সরাসরি এড়িয়ে গিয়ে আইনের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে বহিরাগতদের এমন অবাধ প্রবেশ ও দৌরাত্ম্যের ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুস্থ পরিবেশকে কলুষিত করার পাশাপাশি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ভীতি সঞ্চার করবে। প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামীতে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
