‘সরকারি কর্মচারীরা ক্রীতদাস নয়!’ যোগ দিবসের ফতোয়া নিয়ে হাইকোর্টে তুলকালাম, শুক্রবার চরম সিদ্ধান্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য সরকার ও কর্মচারীদের সংঘাত পৌঁছাল কলকাতা হাইকোর্টে। রেড রোডে আয়োজিত যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মীদের যোগদান বাধ্যতামূলক করার সরকারি নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বামপন্থী সংগঠন রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি। এই হাইভোল্টেজ মামলায় শুক্রবারের মধ্যে রাজ্যকে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
কী নিয়ে এই চরম বিতর্ক?
মুখ্যসচিবের জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রাজ্যের সমস্ত স্থায়ী ও অস্থায়ী সরকারি কর্মী এবং আধিকারিকদের রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, এর জন্য একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই ‘ফতোয়া’র যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কর্মচারী সংগঠনটি।
‘সরকারি কর্মীরা ক্রীতদাস নয়’: আদালতে সরব বিকাশরঞ্জন
মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে তীব্র সওয়াল করে বলেন, “যোগ ব্যায়াম বা শরীরচর্চা অত্যন্ত ভালো বিষয় হলেও, এভাবে ফতোয়া জারি করে তা বাধ্যতামূলক করা যায় না। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা সরকারের ক্রীতদাস নন। ছুটির দিনে কর্মীদের এভাবে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাধ্য করা তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার শামিল। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘স্বেচ্ছামূলক’ করা হোক।”
‘আমরা শুধু অনুরোধ করেছি, বাধ্য করিনি’: সাফাই রাজ্যের
পাল্টা জবাবে রাজ্যের আইনজীবী তথা অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য মৌখিকভাবে দাবি করেন, সরকার কাউকে বাধ্য করেনি, কেবল অনুরোধ করেছে। তিনি আদালতকে জানান, “এবার বিশ্ব যোগ দিবসের ‘এপিসেন্টার’ বা মূল কেন্দ্র হলো কলকাতা। খোদ প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তাই সমস্ত স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে এটি বাধ্যতামূলক একেবারেই নয়।”
রাজ্যের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, যদি বাধ্য না-ই করা হয়, তবে পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হলো?
সব পক্ষের যুক্তি শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন, এই যোগদান আসলে বাধ্যতামূলক নাকি ঐচ্ছিক— তা শুক্রবারের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে বা সুনির্দিষ্টভাবে আদালতে স্পষ্ট করতে হবে। শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
