রথযাত্রা ২০২৬: প্রভু জগন্নাথের ৫৬ ভোগের রহস্য কী? কেন এই বিশেষ আয়োজন? – এবেলা

রথযাত্রা ২০২৬: প্রভু জগন্নাথের ৫৬ ভোগের রহস্য কী? কেন এই বিশেষ আয়োজন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রথযাত্রা বিশেষ প্রতিবেদন ২০২৬: রথযাত্রা মানেই অগণিত মানুষের ঢল, ভক্তির জোয়ার আর শ্রী জগন্নাথ দেবের মহাপ্রসাদের স্বাদ। রথযাত্রার দিনগুলোতে ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে জগন্নাথ দেবের ‘ছাপ্পান্ন ভোগ’ বা ৫৬ ভোগের আয়োজন। কিন্তু কেন ঠিক ৫৬টি পদই নিবেদন করা হয়? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক চমৎকার পৌরাণিক কাহিনি।

পৌরাণিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্বাস: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, জগন্নাথ দেব স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের রূপ। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ছোটবেলায় শ্রীকৃষ্ণ দিনে আটবার ভোজন করতেন। তবে গোবর্ধন পর্বত ধারণ করে যখন তিনি গ্রামবাসীর প্রাণরক্ষা করেছিলেন, তখন টানা সাত দিন সাত রাত তিনি কোনো অন্ন গ্রহণ করেননি। ভক্তদের বিশ্বাস, সেই সাত দিনের বঞ্চনার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই শ্রীকৃষ্ণকে ৮ গুণ ৭ অর্থাৎ মোট ৫৬ ধরনের খাদ্য নিবেদনের প্রথা গড়ে ওঠে। জগন্নাথ দেবকে শ্রীকৃষ্ণের প্রতিরূপ মনে করায় এই প্রথা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়।

মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য: রথযাত্রার সময় জগন্নাথ দেব যখন মূল মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে যাত্রা করেন, তখন ভক্তরা ভক্তিভরে এই বিশেষ ভোগ নিবেদন করেন। এই তালিকায় থাকে সুগন্ধি অন্ন, ঘি ভাত, খিচুড়ি, বিভিন্ন নিরামিষ ব্যঞ্জন, দই, পায়েস, ক্ষীরসহ নানা প্রকারের মিষ্টি ও পিঠা। এই ভোগ নিবেদনে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন। পুরীর মন্দিরে প্রতিদিন বিভিন্ন ভোগ নিবেদন করা হলেও, রথযাত্রা বা বিশেষ উৎসবে ৫৬ ভোগের এই আয়োজন হয়ে ওঠে অত্যন্ত বর্ণময় ও জাঁকজমকপূর্ণ।

জগন্নাথ দেবের এই প্রসাদ ‘মহাপ্রসাদ’ হিসেবে পরিচিত, যা গ্রহণের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন পুরীতে। এই প্রসাদ কেবল খাদ্য নয়, বরং ভগবানের আশীর্বাদের এক পবিত্র প্রতীক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *