ইভিএম গণনায় ‘টোটলাইজার’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তোপ: কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইভিএম (EVM) ভোট গণনা পদ্ধতি নিয়ে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে বুথভিত্তিক আলাদা গণনার পরিবর্তে কেন ‘টোটলাইজার মেথড’ (Totaliser Method) চালু করা হচ্ছে না—এ বিষয়ে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, পেপার ব্যালেটের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনে যদি একাধিক বুথের ভোট একসঙ্গে মেশানোর নিয়ম থাকে, তবে ইভিএমের ক্ষেত্রে তা কেন করা সম্ভব নয়?
কী এই ‘টোটলাইজার মেথড’? বর্তমানে প্রতিটি বুথের ইভিএম আলাদা করে গণনা করা হয়। ফলে কোন বুথ থেকে কোন দল বা প্রার্থী কত ভোট পেলেন, তা স্পষ্ট জানা যায়। এতে রাজনৈতিক দলগুলি কোন এলাকায় এগিয়ে বা পিছিয়ে, সেই সমীকরণ ধরে ফেলে। পক্ষান্তরে, ‘টোটলাইজার মেথড’-এ অন্তত ১৪টি বা তার বেশি ইভিএম মেশিনের ভোট একসঙ্গে যুক্ত করে সামগ্রিক ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট বুথের ভোটিং প্যাটার্ন জানা সম্ভব হয় না।
কেন উঠছে এই পদ্ধতির দাবি? নির্দিষ্ট কোনো বুথে কোনো দল কম ভোট পেলে নির্বাচনের পর সেখানকার ভোটারদের ওপর রাজনৈতিক চাপ, হুমকি বা হেনস্থার ঝুঁকি থাকে। মূলত ভোটারদের নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতেই ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন ও পরবর্তীতে ল কমিশন এই পদ্ধতির সুপারিশ করেছিল।
কেন বিরোধিতায় দলগুলি ও কমিশন? ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষার যুক্তি থাকলেও বিজেপি, কংগ্রেসসহ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি এবং খোদ নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থার বিরোধী। তাদের মূল যুক্তি:
- স্বচ্ছতার ঘাটতি: বুথভিত্তিক ফলাফল নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নজরদারি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- গরমিল ধরা কঠিন: কোনো ইভিএমে কারিগরি ত্রুটি বা কারচুপি থাকলে বুথভিত্তিক গণনায় তা সহজে ধরা পড়ে। কিন্তু সব মেশিনের ভোট একসঙ্গে মিশিয়ে দিলে সেই গরমিল চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সুপ্রিম কোর্ট এখনই এই ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত নির্দেশ না দিলেও, নির্বাচনী আইনে সংশোধন এনে এটি করা সম্ভব কি না তা জানতে চেয়েছে। ভোটারের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতার এই দ্বন্দ্বে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।
