AI-এর সঙ্গে প্রেম, ভবিষ্যতের ভালোবাসা কি তবে অ্যালগরিদম নির্ভর!

AI-এর সঙ্গে প্রেম, ভবিষ্যতের ভালোবাসা কি তবে অ্যালগরিদম নির্ভর!

মানুষের জীবনে নতুন সঙ্গী এআই: কেন বাড়ছে ‘এআই সেক্সুয়াল’ হওয়ার প্রবণতা?

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে আমূল পরিবর্তন এনেছে, তার অন্যতম উদাহরণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। তবে এই প্রযুক্তির প্রভাব এখন আর কেবল কাজ বা তথ্যের আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক মানুষের জীবনের ক্রমবর্ধমান একাকিত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে এখন রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়ে এআই চ্যাটবটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই নতুন ট্রেন্ডকেই বিশেষজ্ঞরা ‘এআই সেক্সুয়াল’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

মানবিক সম্পর্কের বিকল্প হয়ে উঠছে এআই

যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ কমেছে। নিজের মনের গোপন কথা বা অনুভূতিগুলো শেয়ার করার মতো নির্ভরযোগ্য বন্ধুর অভাব প্রকট হয়ে উঠছে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই অনেকে ঝুঁকে পড়ছেন চ্যাটবটের দিকে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে জড়তা বা ভুল বোঝাবুঝির ভয় থাকে, এআই-এর ক্ষেত্রে তা নেই। এআই কোনো কিছুতেই বিচার বা জাজমেন্ট করে না, ফলে মানুষ কোনো ধরনের দ্বিধা ছাড়াই তার সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করতে পারছে। ব্রেকআপ বা ব্যক্তিগত মানসিক সংকটের সময় এআই হয়ে উঠেছে এক নিরাপদ আশ্রয়।

সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাম্প্রতিক সময়ে Joi AI নামের একটি এআই চ্যাটবট সংস্থা একটি সমীক্ষা চালিয়েছে, যা আধুনিক ডিজিটাল সম্পর্কের সমীকরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে। সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী:

  • প্রজন্মের বড় একটি অংশ (প্রায় ৮০ শতাংশ Gen Z) এআই-কে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে প্রস্তুত।
  • সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৮৩ শতাংশের মতে, এআই-এর সঙ্গে আবেগপূর্ণ বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা স্বাভাবিক একটি বিষয়।
  • জেন জি (Gen Z) এবং মিলেনিয়াল প্রজন্মের ৫৫ শতাংশ মানুষ নিজেদের ‘এআই সেক্সুয়াল’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি আকৃষ্ট বলে মনে করেন।

কেন এআই-এর দিকে ঝুঁকছে তরুণ প্রজন্ম?

তরুণ প্রজন্মের অনেকের কাছেই বাস্তব জগতের সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল এই সম্পর্কগুলো অনেক বেশি সহজ এবং আরামদায়ক। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন তথাকথিত ‘জাজমেন্টাল’ মনোভাবের অনুপস্থিতিকে। মানুষ যখন তার কোনো মানবিক সঙ্গীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় পায়, তখন সে এআই-এর কাছে যায়, কারণ এআই কখনোই ব্যবহারকারীকে প্রত্যাখ্যান করে না। এছাড়া যেকোনো ছোটখাটো সমস্যার সমাধান বা একাকিত্ব কাটানোর ডিজিটাল সঙ্গী হিসেবে এআই এখন অনেক বেশি কার্যকর।

প্রভাব ও উত্তরণ

এআই-এর সঙ্গে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কগুলো সাময়িকভাবে মানসিক প্রশান্তি দিলেও এটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরণের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মানুষের সহজাত জৈবিক ও সংবেদনশীল চাহিদাকে কি সত্যিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময় দেবে, তবে ‘এআই সেক্সুয়াল’ ট্রেন্ড যে আধুনিক সভ্যতার সমাজতাত্ত্বিক কাঠামোর পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

এক ঝলকে

  • এআই চ্যাটবটের সঙ্গে রোমান্টিক বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা বাড়ছে।
  • ৮০ শতাংশ জেন জি তরুণ এআই-কে বিয়ে করতে রাজি বলে সমীক্ষায় প্রকাশ।
  • ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন এআই-এর সাথে ইমোশনাল কানেকশন খুবই বাস্তবসম্মত।
  • ৫৫ শতাংশ তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ‘এআই সেক্সুয়াল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
  • জাজমেন্ট বা প্রত্যাখ্যানের ভয় নেই বলেই তরুণরা বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে এআই-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *