একসাথে ৪২টি প্রশ্ন কমন! নিট কেলেঙ্কারিতে সিবিআই-এর হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ২০২৬ সালের নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তদন্তকারীদের ধারণা, এই বিশাল ষড়যন্ত্র কেবল বাইরের কিছু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ ছাড়া এত সুরক্ষিত একটি ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা আসাম্ভব। প্রশ্নপত্র তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণের মতো অত্যন্ত গোপনীয় স্তরে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এখন সিবিআই-এর স্ক্যানারের নিচে।
অনুবাদ প্যানেল ও কোচিং সেন্টারের রহস্যজনক যোগ
তদন্তে সবচাইতে চমকপ্রদ তথ্যটি মিলেছে মহারাষ্ট্রের লাতুর থেকে। সেখানে একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের নেওয়া ‘মক টেস্ট’-এর ৪২টি প্রশ্নের সাথে মূল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। সিবিআই এই ঘটনার সূত্র ধরে লাতুরের একজন অবসরপ্রাপ্ত রসায়ন অধ্যাপককে আটক করেছে। যেহেতু নিট পরীক্ষা ১৩টি ভাষায় অনুষ্ঠিত হয়, তাই প্রশ্নপত্রটি মারাঠি ভাষায় অনুবাদের দায়িত্বে থাকা প্যানেলে ওই অধ্যাপকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অনুবাদ প্রক্রিয়ার সময় তিনি সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রটি দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই তথ্য পাচার করা হয়েছে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) থেকে প্রশ্নপত্র তৈরির বিশেষজ্ঞ, অনুবাদক এবং প্যানেল সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে।
দেশজুড়ে অভিযান ও বড়সড় আর্থিক লেনদেনের হদিশ
এই চক্রের শিকড় খুঁজতে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ১৪টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই। মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে মণীষা ওয়াঘমারে নামক এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি এই নেটওয়ার্কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় দুই ডজন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মণীষার সাথে ধনাঞ্জয় নামক এক বিএএমএস (BAMS) স্নাতকের সরাসরি যোগাযোগ ছিল, যাকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ধৃত সাতজন অভিযুক্ত সাত দিনের সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত বড় অপরাধ। এই হেফাজতের সময় জেরার মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতা এবং এর নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের নাম বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই চক্রের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সিবিআই।
