চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় বড় সাফল্য, উত্তর প্রদেশ থেকে ৩ শার্প শুটারকে গ্রেফতার করল সিআইডি

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল তদন্তকারীরা। দীর্ঘ তল্লাশির পর উত্তর প্রদেশ থেকে তিন শার্প শুটারকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। এই গ্রেফতারিকে মামলার অন্যতম বড় মোড় বা ‘বিগ ব্রেক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতকাল রাতেই গোপন ডেরায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের জালে তোলা হয় এবং দ্রুত কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
রাতভর ভবানী ভবনে ম্যারাথন জেরা
ধৃতদের কলকাতায় নিয়ে আসার পর সরাসরি ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিআইডির উচ্চপদস্থ কর্তারা রাতভর তাঁদের জেরা করেছেন। চন্দ্রনাথ রথকে খুনের নেপথ্যে মূল চক্রান্তকারী কে এবং এই শার্প শুটারদের কারা সুপারি দিয়েছিল, সেই তথ্য বের করে আনাই এখন গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য। সূত্রের খবর, জেরায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে যা এই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
বারাসত আদালতে পেশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
আজ ধৃতদের বারাসত জেলা আদালতে তোলা হচ্ছে। সিআইডির পক্ষ থেকে তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে যাতে এই খুনের রহস্যের গভীরে পৌঁছানো যায়। এদিকে, এই সাফল্যকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী যে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থাকে সচল করেছেন, এই গ্রেফতারি তারই প্রমাণ।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলের একজনকে খতম করার মধ্য দিয়ে কোনো বড় ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উত্তর প্রদেশের এই শার্প শুটারদের সঙ্গে স্থানীয় কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত ধৃতদের জেরা করে মূল অভিযুক্তদের হদিশ পাওয়াই সিআইডির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। মূলত প্রশাসনিক সক্রিয়তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার জেরেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে প্রথম বড় কোনো সাফল্য এল।
