জলপথে চরম ঝুঁকি, ওমান থেকে উড়ে আসা তাজা ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড নিষ্ক্রিয় করল ভারতীয় নৌসেনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ওমান উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর এক চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। হামলার পর আশ্চর্যজনকভাবে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের তাজা ওয়ারহেড (বিস্ফোরকবাহী অংশ) জাহাজের খোল ফুটো করে ভেতরে ঢুকে গেলেও সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। এই মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই ‘এমটি অলিম্পিক লাইফ’ নামক জাহাজটি ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ২০০০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়ে কেরলের কোচি বন্দরে পৌঁছায়। অবশেষে ভারতীয় নৌসেনার বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলের অত্যন্ত সতর্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের মাধ্যমে সেই না-ফাটা ওয়ারহেডটি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।
বিপজ্জনক যাত্রা ও নৌসেনার রুদ্ধশ্বাস অভিযান
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা থেকে অশোধিত তেল নিয়ে কোচি যাওয়ার পথে গত ২৬ মে ওমানের মাসকাট উপকূল থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি হামলার মুখে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাহাজের হালের কাছে খোল ফুটো করে সরাসরি অশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কের কাছে গিয়ে আটকে ছিল। মাঝসমুদ্রে যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো জাহাজটি নাবিকসহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই পরিস্থিতিতে গত ১১ জুন ভারতীয় নৌসেনার এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল (ইওডি) টিম কোচি বন্দরে জাহাজটিতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালায়। কয়েক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় বিস্ফোরকটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই জাহাজে কোনো ভারতীয় নাবিক ছিলেন না।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রভাব
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে ওই অঞ্চলের চলমান সংঘাত ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। এর আগে গত ৯ জুন থেকে ভারতীয় নাবিকদের দ্বারা পরিচালিত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজও পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে, যেখানে ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এই ধরনের ক্রমাগত হামলার ফলে লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
