জলে অপ্রতিরোধ্য ভারত, দেশীয় প্রযুক্তির ৩টি সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী! – এবেলা

জলে অপ্রতিরোধ্য ভারত, দেশীয় প্রযুক্তির ৩টি সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের বিশেষ লগ্নে গার্ডেনরিচের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচিতে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক নামের এই তিন রণতরীর উদ্বোধন করা হয়। গত মার্চ মাসেই নৌসেনার ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হওয়া এই জাহাজগুলি ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ও কারিগরি শক্তির এক অনন্য নিদর্শন।

তিন রণতরীর বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা

নতুন উদ্বোধন হওয়া এই তিনটি যুদ্ধজাহাজ সামরিক দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার সুবিধা প্রদান করবে। আইএনএস দুনাগিরি একটি অত্যাধুনিক স্টেল্‌থ ফাইটার ফ্রিগেট, যা শত্রুপক্ষের রেডারকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। আইএনএস সংশোধক হলো একটি বিশালাকার সার্ভে ভেসেল, যার মূল কাজ সমুদ্রের অতল গভীরে নিখুঁত নজরদারি চালানো। অন্যদিকে, আইএনএস অগ্রয় একটি শক্তিশালী সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ, যা সমুদ্রের নীচে লুকিয়ে থাকা শত্রুর ডুবোজাহাজ নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে পারে। এই ত্রিমুখী শক্তি ভারতীয় নৌসেনার সামুদ্রিক আধিপত্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

ভবিষ্যতের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই ভারত সমুদ্রশক্তিতে এই বিপুল বিনিয়োগ ও শক্তিবৃদ্ধি করছে। একসময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করা ভারত আজ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের এই উদ্যোগ শুধু বহির্বিশ্বের উপর থেকে ভারতের আমদানি নির্ভরতাই কমাবে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে এক নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। নৌসেনার এই শক্তিবৃদ্ধি মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং সামুদ্রিক প্রতিরক্ষাকে মজবুত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এবং নৌ ও বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *