টাকা ফেরতের দাবিতে ডিম-বৃষ্টি! আরামবাগে মুচলেকা লিখিয়ে তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আরামবাগ: চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবার নজিরবিহীন জনরোষের মুখে পড়লেন আরামবাগের এক দাপুটে তৃণমূল নেতা। ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে শুধু ‘চোর চোর’ স্লোগানই দেয়নি, ওড়ালো ডিমও! শেষমেশ বাধ্য হয়ে টাকা ফেরতের মুচলেকা লিখে দেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার আরামবাগের সালেপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচমাইল এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ধৃত তৃণমূল নেতার নাম গুণধর খাঁড়া। তিনি আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন। অভিযোগ, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে প্রাইমারি ও অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রলোভন দিয়ে কোটি কোটি টাকা তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কেউ চাকরি পাননি, টাকাও ফেরত মেলেনি। এমনকি নিয়োগ দুর্নীতিতে এই নেতার ছোট মেয়ের চাকরিও বাতিল হয়েছিল।
‘টাকা শান্তনুকে দিয়েছি’, কবুল নেতার:
এদিন প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীরা তাঁর ফার্মহাউসে চড়াও হয়ে টাকা ফেরত চান। খবর পেয়ে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও সেখানে এসে বিক্ষোভে শামিল হন। জনরোষের মুখে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন গুণধর খাঁড়া। তিনি বলেন, “আমি প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা তুলেছিলাম। সেই সব টাকাই হুগলি জেলার প্রাক্তন যুব তৃণমূল সভাপতি (বর্তমানে জেলবন্দি) শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েছিলাম। শান্তনু টাকা ফেরত না দিলেও আমি আস্তে আস্তে সবার টাকা শোধ করে দেবো।” যদিও তাঁর এই আশ্বাসে চিঁড়ে ভেজেনি।
চোখের জল প্রতারিতদের:
বিক্ষোভে শামিল রীতা দাস নামের এক মহিলা বলেন, “মেয়ের প্রাইমারি চাকরির জন্য সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম, মাত্র ১ লক্ষ টাকা ফেরত পেয়েছি।” অন্য এক চাকরিপ্রার্থী স্বদেশ সামন্ত আক্ষেপের সুরে বলেন, “সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। চাকরিও হয়নি, একটা টাকাও ফেরত পাইনি।”
আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূল নেতারা এত পাপ করেছেন যে এবার তা একে একে সামনে আসছে। বহু মানুষের চোখের জল পড়েছে। গুণধর খাঁড়াকে শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, সাধারণ মানুষের প্রত্যেকটি টাকা ফেরত দিতে হবে।” এলাকা থমথমে থাকায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
