বেড়ার গাছই এখন ‘টাকার গাছ’! এতদিন যা আগাছা ভাবতেন কৃষকরা, আজ তাতেই হচ্ছেন কোটিপতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: ভারতের কৃষকরা যে গাছকে বছরের পর বছর ধরে ‘বেকার আগাছা’ ভেবে এসেছেন, কেবল বন্য পশুর হাত থেকে ফসল বাঁচাতে খেতের বেড়া হিসেবে ব্যবহার করেছেন, আজ সেই গাছই বদলে দিচ্ছে তাঁদের ভাগ্য! আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ (BBC)-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাজিক দেখানো এই উদ্ভিদের নাম ‘অগাভে’ (Agave)।
বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বিলাসবহুল মদ ‘টকিলা’ (Tequila) ও ‘মেসকাল’ তৈরি হয় এই অগাভে গাছ থেকেই। বর্তমানে ভারতের বড় বড় মদ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি কৃষকদের কাছ থেকে চড়া দামে এই অগাভে কিনতে শুরু করেছে। এর ফলেই রাতারাতি কপাল খুলেছে চাষিদের, আর স্থানীয় মানুষ এখন একে ডাকছেন ‘ব্লু গোল্ড’ বা ‘নীল সোনা’ নামে।
দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চলের টমেটো ও চীনাবাদাম চাষি এম. ভেঙ্কটেশ জানান, ২০১০ সালে প্রথমবার কিছু ব্যবসায়ী এই গাছের খোঁজে তাঁর কাছে আসেন। তার আগে পর্যন্ত তাঁরা এটিকে বুনো ঝোপঝাড় ছাড়া কিছুই ভাবতেন না। পরে জানতে পারেন, দুনিয়া কাঁপানো টকিলা তৈরির মূল উপাদান লুকিয়ে রয়েছে এই গাছেই। আজ ভেঙ্কটেশ একা নন, তাঁর আশেপাশের ১০০ কিলোমিটার এলাকার বহু গ্রামের কৃষকরা জঙ্গল থেকে এই অগাভে সংগ্রহ করে বড় বড় কো ম্পা নিতে সরবরাহ করছেন এবং লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন।
২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন – তৈরির পেছনে রয়েছে কঠিন পরিশ্রম:
এই গাছ থেকে মদ তৈরি করা কিন্তু মুখের কথা নয়। ‘মায়া পিস্তোলা অগাভেপুরা’ (Maya Pistola Agavepura) কো ম্পা নির প্রতিষ্ঠাতা রক্ষয় ধারিওয়াল জানান, এই ব্যবসায় ‘সময়’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অগাভে গাছের কাঁটাযুক্ত পাতাগুলো কাটার পর মাঝখানে যে গোল অংশটি থাকে, তাকে বলা হয় ‘পিন্যা’ (Piña – হার্ট)। এর মধ্যেই থাকে আসল শর্করা বা সুগার। গাছ কাটার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অংশটিকে ফ্যাক্টরির প্রেসার কুকারে পৌঁছাতে হয়। সামান্য দেরি হলেই শর্করা পচে যায় এবং মদের স্বাদ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
৯ থেকে ১৩ বছরের অপেক্ষা, তবুও বাড়ছে চাহিদা:
ভারতে এখনও এই গাছের বাণিজ্যিক বা পরিকল্পিত চাষ (Organized Farming) শুরু হয়নি। কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান এবং অন্ধ্রপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকায়, জঙ্গলে বা খেতের আলে স্বাভাবিকভাবে গজিয়ে ওঠা গাছগুলো খুঁজে খুঁজে ফ্যাক্টরিতে নিয়ে আসতে হয়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, একটি অগাভে গাছ সম্পূর্ণ বড় হয়ে ফলন দেওয়ার উপযোগী হতে ৯ থেকে ১৩ বছর সময় লাগে। বর্তমানে ভারতে অগাভে-ভিত্তিক মদের বাজার প্রতি বছর ৩১% হারে তরতরিয়ে বাড়ছে। দেশের একচেটিয়া ‘হুইস্কি’র বাজারকে এটি পুরোপুরি টেক্কা দিতে না পারলেও, প্রিমিয়াম বা অভিজাত মদের বাজারে এই ‘নীল সোনা’ এখন নিজের শক্ত জায়গা বানিয়ে নিয়েছে।
