ট্রাম্পের চালে ফের উত্তপ্ত অপরিশোধিত তেলের বাজার, হরমুজ সংকটে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ!

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ইরান-আমেরিকা টানাপড়েনে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ভয়াবহ উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চললেও তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও আমেরিকা তা অবরোধ করে রাখায় শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা
আমেরিকা কর্তৃক ইরানের কার্গো জাহাজ জব্দ এবং শান্তি আলোচনা থেকে ইরানের সরে আসার সিদ্ধান্তে সোমবার ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৬.৩০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৯.১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা তেলের প্রায় ২০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই পথ বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
ভারতীয় বাজারে বর্তমান চিত্র
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আবগারি শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে সরকার তেল বিপণন সংস্থাগুলোর লোকসান সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বেসরকারি রিফাইনারিগুলো এবং প্রিমিয়াম তেলের দাম ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া গত মাসেই রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
এক ঝলকে
- আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৮৯ ডলার ছাড়িয়েছে।
- দিল্লি ও কলকাতায় পেট্রোলের দাম যথাক্রমে ৯৪.৭৭ ও ১০৫.৪১ টাকায় স্থিতিশীল থাকলেও রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে।
- বৈশ্বিক সরবরাহ সচল না হলে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের আমদানি খরচ ও খুচরা বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
