দল থেকে বহিষ্কৃত সদস্য কীভাবে বিরোধী দলনেতা, হাই কোর্টে জোরালো প্রশ্ন কল্যাণের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতা এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত এক বিধায়ককে কীভাবে বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক পদে স্বীকৃতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের করা মামলার শুনানিতে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি
আদালতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আপত্তি তোলেন। তিনি দাবি করেন, যে বিধায়ককে দল থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে, তিনি কোনওভাবেই বিরোধী দলনেতা হতে পারেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এই পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন পর্যন্ত তিনি নিজ দায়িত্বে বহাল ছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেছিলেন। এমতাবস্থায়, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে অন্য একজনকে ওই পদে বসানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মামলার ভবিষ্যৎ
মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানতে চান, কোনও রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বহিষ্কার করলে সেই ব্যক্তি কীভাবে বিরোধী দলনেতার আসনে বসতে পারেন। পাশাপাশি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই পদে নির্বাচিত করার পর স্পিকারের তরফে কেন কোনও পৃথক বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা শুরুর আগে নতুন করে আসন সংরক্ষণ না করার আবেদন জানানো হলেও আদালত তাতে সাড়া দেয়নি।
এই ঘটনার পেছনে বিধানসভার স্পিকারের একতরফা সিদ্ধান্ত এবং দলিত বিধায়কের বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করার নিয়মনীতির সংঘাত রয়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে বিধানসভায় দল ও স্পিকারের সম্পর্কের সমীকরণ এবং বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত নতুন আইনি নজির তৈরি হতে পারে। রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য স্পিকারের অবস্থানের পক্ষে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য সময়ের আবেদন জানিয়েছেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করায় আগামী ১৬ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
