দেশে দু’মাসের তেল-গ্যাস মজুত, দাম কমার প্রশ্নে কী জানাল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশে তেল ও গ্যাসের জোগান নিয়ে সাধারণ মানুষ কিংবা শিল্পক্ষেত্রের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। বর্তমানে দেশে প্রায় দুই মাসের জন্য প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল, এলপিজি (LPG) এবং এলএনজি (LNG) মজুত রয়েছে। ফলে বাজারে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল বা গ্যাস না কেনার জন্য আশ্বস্ত করেছে সরকার।
মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের শোধনাগারগুলি বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করে কাজ করে চলেছে। বিগত কয়েক মাস ধরে জ্বালানির মজুত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় রেখেছে। কিছু খুচরো আউটলেটে সাময়িকভাবে বিক্রি বাড়লেও সরবরাহ সচল রাখতে সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মূলত বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতেই সরকারের এই তৎপরতা।
জ্বালানি সরবরাহ ও পিএনজি সংযোগের অগ্রগতি
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ অত্যন্ত গতিশীল। গত তিন দিনে দেশে প্রায় ১.৪০ কোটি ডোমেস্টিক এলপিজি সিলিন্ডার বুক করা হয়েছে এবং তার বিপরীতে ১.৪৯ কোটি সিলিন্ডার সফলভাবে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২২,৩৪০ টন বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ৫ কেজির ছোট এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে প্রায় ১.৯১ লক্ষ।
পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পাইপলাইনের গ্যাসের (PNG) পরিধি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে দেশের প্রায় ৯.৪২ লক্ষ বাড়িতে নতুন পিএনজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩.১২ লক্ষ সংযোগের পরিকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৯.৪৪ লক্ষ নতুন গ্রাহক এই পরিষেবার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাহকদের এলপিজি থেকে পিএনজি সংযোগে স্থানান্তরিত হতে উৎসাহিত করতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্র।
ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধি ও গ্রাহকদের প্রতি বিশেষ বার্তা
জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও আগামী দিনে পেট্রোল, ডিজেল বা গ্যাসের দাম কমবে কি না, সেই বিষয়ে এখনই স্পষ্ট কোনো আভাস দেয়নি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ দাম নির্ধারিত হওয়ায় এই মুহূর্তে দাম কমার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা।
তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট এড়াতে গ্রাহকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন কেবল নিজেদের প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল বা সিলিন্ডার কেনেন এবং যেকোনো ধরণের ভিত্তিহীন গুজব এড়িয়ে চলেন। একই সঙ্গে শক্তি সঞ্চয় এবং যেখানে সম্ভব বিকল্প জ্বালানি বা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে।
