নেতাজিকে অপমান, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিল শুভেন্দু সরকার – এবেলা

নেতাজিকে অপমান, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিল শুভেন্দু সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ সম্পর্কে বিতর্কিত ও অপমানজনক মন্তব্যের জেরে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের দেওয়া সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাঁর কাছ থেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া সতর্কবার্তা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জারি করল নবান্ন।

বৃহস্পতিবার নবান্নের সভাঘর থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, দেশের বীর সন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনো ধরনের কটূক্তি বা অপমান বরদাস্ত করা হবে না। দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, নেতাজিকে নিয়ে বিকৃত ও কুৎসিত মন্তব্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে।

সম্প্রতি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ নেতাজিকে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে আখ্যা দিয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেন। শুধু তা-ই নয়, আজাদ হিন্দ ফৌজ এবং নেতাজির অবদানকে খাটো করে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য করেন তিনি। চৌকিদার বা ব্রিটিশ আমলের নানা নথির দোহাই দিয়ে নিজের মন্তব্যের সাফাই গাইলেও, এই বিষয়ে তিনি কোনো দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাননি। এর ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিজেপি দলের অন্দরেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারের তরফ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে যে বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রদান করা হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাতিল ও প্রত্যাহার করা হলো। সরকারি নথিতে আরও জানানো হয়েছে, সম্মান প্রদানের পর এমন কিছু গুরুতর পরিস্থিতি ও তথ্য রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে, যা এই সম্মানের মর্যাদা ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:

  • অনন্ত মহারাজ আর নিজেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রাপক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।
  • এই সম্মান সংক্রান্ত কোনো সুবিধা, অধিকার বা মর্যাদা তিনি ভবিষ্যতে ভোগ করতে পারবেন না।
  • বঙ্গবিভূষণ প্রাপকদের অফিশিয়াল তালিকা থেকে তাঁর নাম অবিলম্বে মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেতাজির মতো জাতীয় বীরকে আসাম্মান করার বিরুদ্ধে সরকারের এই শক্ত অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *