মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন ঝড়ে তছনছ বড় দলগুলোর অংক, রেজিনগর ও নওদায় জয়ের পথে ‘জায়ান্ট কিলার’

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় মুর্শিদাবাদ জেলায় সবথেকে বড় চমক সৃষ্টি করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, রেজিনগর ও নওদা— এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে রেজিনগরে ৬ হাজারেরও বেশি ভোটের লিড নিয়ে তিনি তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছেন। বড় কোনো দলের সমর্থন ছাড়াই তাঁর এই একক আধিপত্য জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে।
ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় বাজিমাত
মুর্শিদাবাদের রাজনীতির ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন কবীর এবার কোনো প্রতিষ্ঠিত জোটের সঙ্গে না গিয়ে নিজের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গড়ে ময়দানে নেমেছিলেন। গণনার শুরু থেকেই দুই কেন্দ্রে তাঁর দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং প্রধান বিরোধী দলের মেরুকরণের রাজনীতির ভিড়ে সাধারণ ভোটাররা হুমায়ুন কবীরের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও নিচুতলার মজবুত সংগঠনের ওপর ভরসা রেখেছেন। নওদা কেন্দ্রেও তাঁর অপ্রতিরোধ্য গতি এখন পর্যন্ত অব্যাহত।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান
যদি চূড়ান্ত ফল পর্যন্ত এই ধারা বজায় থাকে, তবে রাজ্য বিধানসভায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এক গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করছে যে, নির্দিষ্ট জনভিত্তি থাকলে বড় প্রতীকের বাইরেও জয় পাওয়া সম্ভব। তাঁর এই উত্থান মুর্শিদাবাদে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণ ভেঙে দিতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রাজ্যের পরবর্তী সরকার গঠনের জটিল পাটিগণিতে। শেষ রাউন্ডের গণনা শেষে এই লিড কত বড় ব্যবধানে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
