রেলস্টেশনে দোকান খোলার নিয়ম, কীভাবে আবেদন করবেন এবং কী কী নথি লাগবে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে চায়ের দোকান, খাবারের স্টল কিংবা বইয়ের দোকান সবসময়ই লাভজনক ব্যবসা হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর যাতায়াত থাকায় এই স্থানগুলোতে ব্যবসার বিপুল সম্ভাবনা থাকে। তবে রেলের জমিতে বা প্ল্যাটফর্মে অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বৈধভাবে এই ব্যবসা শুরু করতে হলে ভারতীয় রেলওয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী
রেলস্টেশনে দোকান বা স্টল দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই একজন ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। প্রার্থীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হওয়া আবশ্যক এবং তাঁর নামে কোনো গুরুতর পুলিশি রেকর্ড থাকা চলবে না। নিয়ম অনুযায়ী, স্টেশনগুলির অবস্থান, প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব, যাত্রীদের যাতায়াতের সংখ্যা এবং দোকানের আকারের ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত একটি চায়ের দোকান, কফি শপ বা বইয়ের দোকানের জন্য প্রাথমিক খরচ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু হতে পারে। এর সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ফি, সিকিউরিটি ডিপোজিট, মাসিক ভাড়া ও লাইসেন্স ফি যুক্ত হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথি
প্ল্যাটফর্মে দোকানের লাইসেন্স পাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ভারতীয় রেলের আইআরইপিএস (IREPS) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আবেদনকারীকে ওয়েবসাইট থেকে টেন্ডার ডকুমেন্ট ডাউনলোড করে অনলাইন বা অফলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সাথে আর্নেস্ট মানি ডিপোজিট (EMD) জমা দিতে হয়। এরপর বিডিং বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় যিনি সর্বোচ্চ ও যোগ্য দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হন, তিনিই ব্যবসার লাইসেন্স পান।
এই প্রক্রিয়ায় আবেদনের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির প্রয়োজন হয়। আবেদনকারীর পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, বিগত কয়েক বছরের ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) ফাইল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক নথি বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হয়। এই নিয়মাবলী মেনে চললে যেমন আইনি জটিলতা এড়ানো যায়, তেমনই রেলের জমিতে সুরক্ষিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
