শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় চমক, নিজের হাতেই অর্থ রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর পাঁচ সহযোগীর শপথ গ্রহণের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার পরিধি এবং দপ্তর বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা চলছিল। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী সোমবারই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা শপথ নিতে চলেছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। নতুন, পুরোনো এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের এক সুষম ভারসাম্যে সাজানো হচ্ছে শুভেন্দুর এই নতুন ‘ক্যাবিনেট’। রাজনৈতিক মহলের খবর, ভারসাম্য বজায় রাখা এই মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা হতে চলেছে ৩৩ জন।
অর্থের রাশ নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছিল যে, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। এমনকি নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনেও তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানা গেছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ দপ্তরটি নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সাথে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরও তাঁর নিজের জিম্মায় থাকতে পারে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নমুখী রোডম্যাপ
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের কাঁধে চেপে বসা বিপুল ঋণের বোঝা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ না করায় রাজস্বে যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে, তাকে এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রধান অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত এই কারণেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে দ্রুত ঘুরে দাঁড় করানোকেই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
নিজের হাতে অর্থ দপ্তর রাখার মূল কারণ হলো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সরকারি দপ্তরে সরাসরি অর্থনৈতিক গতি আনা। শুভেন্দুর মূল লক্ষ্য একদিকে যেমন রাজ্যের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, অন্যদিকে তেমনই শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে উন্নয়নের ধারাকে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দেওয়া। নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপি যে বিকল্প অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রী অর্থ দপ্তর নিজের দায়িত্বে রেখে এই উন্নয়নের রোডম্যাপ নির্ধারণ করতে চলেছেন। একটি গতিশীল মন্ত্রিসভাকে সাথে নিয়ে মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই এখন নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।
