সন্তানকে অলরাউন্ডার বানানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় বিপন্ন হচ্ছে শিশুর আত্মবিশ্বাস! – এবেলা

সন্তানকে অলরাউন্ডার বানানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় বিপন্ন হচ্ছে শিশুর আত্মবিশ্বাস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে প্রত্যেক অভিভাবকই চান তাঁর সন্তান সবার চেয়ে সেরা হোক। কিন্তু সন্তানকে প্রতিভাবান ও ‘অলরাউন্ডার’ হিসেবে গড়ে তোলার এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি একাধিক প্রাইভেট টিউশন, নাচ, গান, সাঁতার বা আবৃত্তির মতো নানা ক্লাসের অতিরিক্ত চাপ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বড়দের প্রত্যাশার এই ভারী বোঝা বহন করতে গিয়ে শিশুরা নিজের অজান্তেই মানসিক অবসাদ ও হীনম্মন্যতার শিকার হচ্ছে।

অতিরিক্ত চাপ ও হীনম্মন্যতার মূল কারণ

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিভাবকদের কিছু অসচেতন আচরণই শিশুর আত্মবিশ্বাস ভাঙার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। সহপাঠী বা আত্মীয়দের সঙ্গে ক্রমাগত তুলনা করা সন্তানের আত্মসম্মানে গভীর আঘাত হানে, যা তাকে অনুপ্রাণিত করার বদলে মানসিকভাবে পিছিয়ে দেয়। এছাড়া, ছোটখাটো ভুলের জন্য মাত্রাতিরিক্ত বকাবকি শিশুদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক তৈরি করে, যার ফলে তারা বাবা-মায়ের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে মিথ্যা বলার আশ্রয় নেয়। বড়দের পারিবারিক বা ব্যক্তিগত জটিল সমস্যা নিয়ে শিশুদের সামনে খোলামেলা আলোচনা এবং তাদের নিজস্ব মতামত ও অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে শিশুরা নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। সবশেষে, জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বড়রা চাপিয়ে দিলে শিশুর মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তির জন্ম হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের অবক্ষয় ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রভাব

অভিভাবকদের এই ভুল আচরণের ফলে দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। শৈশবেই তাদের মন থেকে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে এবং তারা একাকীত্ব ও তীব্র মানসিক উদ্বেগে ভুগছে। নিজের গতিতে বিকশিত হতে না পারায় শিশুরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শিশুদের অনুভূতিকে যথাযথ মূল্যায়ন করলে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দিলে তারা অনেক বেশি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রেখে চললে শিশুরা যেমন মানসিকভাবে সুস্থ থাকে, তেমনই পরিবারের সঙ্গে তাদের সুদৃঢ় ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *