ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ‘জল দাও’ আর্তনাদ! তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ গুদাম, মৃত ৩ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: “জল দাও, জল…” কংক্রিট আর লোহার রডের জঞ্জালের গভীর থেকে ভেসে আসছে এমনই করুণ আর্তনাদ। চোখের সামনে এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা, ধ্বংসস্তূপের সামান্য ফাঁক দিয়েই ভেতরে আটকে থাকা অসহায় মানুষগুলোর দিকে বাড়িয়ে দিচ্ছেন জলের বোতল। বুধবার দুপুরে তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামের বিশাল ছাদ ভেঙে পড়ে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিপর্যয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং ১৪ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক এখনও আটকে রয়েছেন, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়?
জানা গিয়েছে, যে গুদামটি ভেঙে পড়েছে সেটি মূলত কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের। একটি বেসরকারি চা সংস্থা জায়গাটি লিজ নিয়েছিল এবং গত দেড় বছর ধরে সেখানে তাদের গুদামের নির্মাণকাজ চলছিল।
- এক প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকের বয়ান অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকেই নির্মীয়মাণ কাঠামোটি বিপজ্জনকভাবে নড়ছিল।
- পরিস্থিতি বুঝতে কয়েকজন শ্রমিক কাঠামোটি পরীক্ষা করতে যান।
- ঠিক তখনই আচমকা কয়েক তলা উঁচু বিশাল ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে এবং কর্মরত শ্রমিকরা কংক্রিটের ভারী চাঙড়ের নিচে চাপা পড়ে যান।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ:
খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত বের করে আনতে আসরে নামে সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)।
- গুদামের পেল্লাই আকারের পিলারগুলো ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজে চরম বেগ পেতে হচ্ছে কর্মীদের।
- ভারী কংক্রিটের অংশ সরিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তায় গাফিলতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠছে, এই গুদাম নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন আসগর খান নামের এক প্রভাবশালী নির্মাণ ব্যবসায়ী। এলাকায় তাঁর যথেষ্ট দাপট থাকায় নির্মাণকাজে শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাই (Safety Measures) নেওয়া হয়নি। প্রভাব খাটিয়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করার এই চরম গাফিলতির কারণেই আজ নিরীহ শ্রমিকদের প্রাণ গেল বলে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন।
