৩ হাজার টাকার জন্য কেন ১২ পাতার ফর্ম, ‘বেশ করেছি’ বলে বিতর্ক উসকে দিলেন অগ্নিমিত্রা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের মহিলাদের জন্য ঘোষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে দীর্ঘ ১২ পাতার আবেদনপত্র পূরণ করা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ৩ হাজার টাকার এই ভাতার জন্য কেন গোটা পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দিতে হবে, তা নিয়ে সাধারণ মহিলাদের একাংশ যখন ক্ষুব্ধ, ঠিক তখনই এই জটিল প্রক্রিয়ার সমর্থনে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। আবেদনের এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সঠিক মানুষের কাছে সরকারি টাকা পৌঁছে দিতেই এই সিদ্ধান্ত এবং এর জন্য তিনি ‘বেশ করেছেন’।
জটিলতার কারণ ও সরকারি যুক্তি
প্রকল্পের সূচনালগ্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল উভয়েই জানিয়েছিলেন, পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রাপকদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এ স্থানান্তরিত হবে এবং নতুন করে ফর্ম পূরণের প্রয়োজন পড়বে না। তবে প্রশাসনিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পূর্ববর্তী প্রকল্পে ব্যাপক হারে ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, এমনকি পুরুষরাও সেই সুবিধা নিচ্ছিলেন। সরকারের দাবি, সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে এবং প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক অবস্থান যাচাই করতেই এই ১২ পাতার বিস্তারিত ফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তথ্যভাণ্ডারটি ভবিষ্যতে সরকারের অন্যান্য সমস্ত প্রকল্পের জন্য একটি অভিন্ন ডেটাবেস হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
প্রভাব ও সরলীকরণের আশ্বাস
আবেদন প্রক্রিয়ার এই জটিলতার কারণে একদিকে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক করানোর জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই জটিল স্ক্রুটিনির ফলে বহু অযোগ্য আবেদনকারী বাদ পড়বেন বলে মনে করা হলেও, প্রকৃত প্রাপকরা যাতে বঞ্চিত না হন তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রশাসন। তবে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, আবেদনের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে কিছুটা সহজ ও সরল করা যায় কি না, তা নিয়ে বর্তমানে দফতরে চিন্তাভাবনা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
