কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হলো তৃণমূল নেতাকে, ১০ কোটির দুর্নীতিতে তোলপাড় আলিপুরদুয়ার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা থানা এলাকায় ১০ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সহ-সভাপতি মানস রায়। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মাঝেরডাবড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের এই আর্থিক তছরুপের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
দুর্নীতির নেপথ্য কারণ ও প্রেক্ষাপট
অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে মানস রায় তৃণমূলের যুব জেলা সভাপতির পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় এবং অনিয়ম চালিয়ে যান। স্থানীয় মাঝেরডাবড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। প্রশাসনের একাধিক স্তরে অভিযোগ জানানোর পর, অবশেষে এক বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শামুকতলা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
মামলার অগ্রগতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
ধৃত তৃণমূল নেতা মানস রায়কে বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই মামলার অন্যতম সহ-অভিযুক্ত, মানস রায়ের স্ত্রী তথা মাঝেরডাবড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান বুবুন রায় এখনও পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েতের পাঁচ বছরের হিসাব খতিয়ে দেখে দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। একজন প্রভাবশালী নেতার এভাবে কোমরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটার দৃশ্য স্থানীয় পঞ্চায়েত স্তরের দুর্নীতি রোধে প্রশাসনের কড়া বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
