জিডিপি ৭.৮% ছুঁতেই মোদির ‘আত্মনির্ভর’ বার্তা, পাল্টা ‘৩ ইউ’ আর মূল্যবৃদ্ধির খোঁচা কংগ্রেসের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ ছুঁতেই সরগরম জাতীয় রাজনীতি। এই সাফল্যকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দেশের অর্থনৈতিক শক্তির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের শ্রমশক্তিকে এর কৃতিত্ব দিয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সরকারের ‘উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ছবি’র দাবিকে একযোগে আক্রমণ করেছে বিরোধী দলগুলি।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, মোদি জমানায় সাধারণ মানুষ তিনটি সংকটের (৩ ইউ) মুখোমুখি—অভূতপূর্ব বেকারত্ব (Unprecedented Unemployment), অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি (Unbearable Price Rise) এবং লাগামহীন বৈষম্য (Unbridled Inequality)। অন্যদিকে, কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এই হিসাবকে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল জিমন্যাস্টিক্স’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেন, এ বছরই জিডিপি গণনার পদ্ধতি দু’বার বদল করা হয়েছে; পুরনো পদ্ধতিতে হিসাব করলে এই হার আরও কম হতো।
কংগ্রেস নেতা সালমান সোজ প্রশ্ন তোলেন, অর্থনীতি এতটাই শক্তিশালী হলে সাধারণ পরিবারকে সংসার চালাতে কেন ঋণ নিতে হচ্ছে? তিনি জানান, গ্রামীণ মজুরি স্থবির, যুব বেকারত্ব ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ সত্ত্বেও জিডিপিতে উৎপাদন ক্ষেত্রের অবদান ১৩ শতাংশের নিচে। পবন খেরা এবং আরজেডি নেতা মনোজ ঝা-ও প্রশ্ন তোলেন, মাত্র এক ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধি কোনো ‘অর্থনৈতিক বসন্ত’ নয়। দুধ, ডিজেল, পেঁয়াজ বা চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের পাতে এই বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে না। যদি অর্থনীতি এতই উন্নত, তবে দেশের এক বিশাল অংশকে কেন এখনও বিনামূল্যে রেশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে?
বিরোধীদের এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক ভিডিও বার্তায় বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, কোভিড-পরবর্তী অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চরম সংকট সত্ত্বেও ভারত দ্রুত এগোচ্ছে। বিরোধীদের নাম না করে তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “দেশ যখন ধাপে ধাপে এগোচ্ছে, তখন কিছু মানুষ হতাশায় ডুবে থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।” একই সাথে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার ওপর আবারও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
