তারাতলার অভিশপ্ত শেড কাড়ল প্রাণ, স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী এসএসকেএম হাসপাতাল! – এবেলা

তারাতলার অভিশপ্ত শেড কাড়ল প্রাণ, স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী এসএসকেএম হাসপাতাল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মঙ্গলবার রাতেও দিদিকে ফোনে আশ্বস্ত করেছিলেন খুব তাড়াতাড়ি দেখা হবে। কিন্তু সেই কথা আর রাখা হল না কৃষ্ণনগরের রোহিত চৌধুরীর। বুধবার সকালে তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজের শেড ভেঙে যে মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে, তার নিচেই চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। শুধু রোহিত নন, অভাবের তাড়নায় কাজ করতে আসা উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের কৃষ্ণ চৌধুরীর মতো আরও শ্রমিকের এমন অকাল মৃত্যুতে এখন শোকের ছায়া এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে।

জীবিকার সন্ধানে এসে মর্মান্তিক মৃত্যু

জানা গিয়েছে, পেশায় ওয়েল্ডার রোহিত গত পাঁচ মাস ধরে এই গুদামে কাজ করছিলেন। অন্যদিকে, নিজের এলাকায় কাজ না পেয়ে বাধ্য হয়েই তারাতলায় এসেছিলেন কৃষ্ণ। বুধবার সকালে কাজ চলাকালীন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে কারখানার শেড এবং মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন কর্মরত শ্রমিকরা। টেলিভিশনের পর্দায় খবর দেখে প্রবল আশঙ্কায় এসএসকেএম-এ ছুটে আসেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। মর্গে প্রিয়জনের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রোহিতের দিদি ও কৃষ্ণর দাদা। মূলত গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাবই যে এই শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহরের বিপজ্জনক নির্মাণকাজে যুক্ত হতে বাধ্য করছে, এই ঘটনা তারই একটি মর্মান্তিক দলিল। উপার্জনশীল মানুষকে হারিয়ে পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ এখন গভীর অন্ধকারে।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে উদ্ধারকাজে নামে সেনা। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ওই নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পূর্বতন তৃণমূল আমলে পাশ হওয়া বিল্ডিং প্ল্যানগুলিও নতুন করে স্ক্যানারে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, ত্রুটিপূর্ণ নকশা বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এই প্রাণঘাতী ধস। এই দুর্ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর, যেখানে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করা হতে পারে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে শহরের অন্যান্য নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলিতেও বেআইনি কাজ বন্ধ হওয়া এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *